দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় আকস্মিক শিলা বৃষ্টির তান্ডবে ভুট্টার আবাদে নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপর্যয়। হঠাৎ করে হওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাঠজুড়ে থাকা পাকা ও আধাপাকা ভুট্টাক্ষেত মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে যায়, ফলে কৃষকদের মাঝে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
গত কয়েক দিনের অস্বাভাবিক আবহাওয়ার পর ১৬ মার্চ রাতে হওয়া তীব্র শিলা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ ভুট্টাক্ষেত ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শিলার আঘাতে অধিকাংশ ভুট্টা গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে গেছে, আবার কোথাও জমে থাকা পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে পচে যাচ্ছে ফসল। এতে করে চলতি মৌসুমে ভুট্টা উৎপাদনে বড় ধরনের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, এ সময় ভুট্টা ছিল দানা গঠনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে। ফলে শিলাবৃষ্টির আঘাতে শুধু গাছই নয়, গাছের দানাও মারাতœকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এতে ফলনের সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
উপজেলার সোনারপাড়া গ্রামের কৃষক নাইমুর রহমান বলেন, “আমার প্রায় ৩ বিঘা জমির ভুট্টা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। জমিতে যা দেখছেন, সব মাটিতে পড়ে আছে। এত কষ্ট করে চাষ করেছিলাম, এখন সব শেষ। ঋণ করে চাষ করেছি, কীভাবে শোধ করবো বুঝতে পারছি না।”
লোহারবন্দ গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, “শিলা বৃষ্টির সময় মনে হচ্ছিল আকাশ থেকে পাথর পড়ছে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল। একটা গাছও ঠিক নেই। এবার লাভ তো দূরের কথা, পুঁজি ফেরত পাওয়াও কঠিন হয়ে যাবে।”
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বছরই কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন, কিন্তু ক্ষতিপূরণ বা সহায়তা অনেক সময়ই সময়মতো পান না। তাই তারা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়ন করে সরকারি প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা দ্রুত আর্থিক সহায়তা, বীজ ও সার প্রণোদনার মাধ্যমে পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা আবার নতুন করে চাষাবাদ শুরু করতে পারেন।
এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, “১৬ মার্চ রাতে হঠাৎ শিলা বৃষ্টির কারণে ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ শুরু করেছি। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের সরকারি সহায়তার আওতায় আনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা হবে।”
তিনি আরও জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আবহাওয়ার এই অনিশ্চয়তা দিন দিন বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সহনশীল জাতের ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।