রাজশাহী

জয়পুরহাটে অসময়ের বৃষ্টিতে আলুক্ষেত পানির নিচে

অসময়ের বৃষ্টিতে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আলুর ক্ষেত তলিয়ে গেছে। মাঠজুড়ে জমে থাকা পানিতে অনেক জায়গায় আলু গাছ নষ্ট হয়ে গেছে, কোথাও ক্ষেতে স্তূপ করে রাখা আলু বৃষ্টির পানিতে তা পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এদিকে, বাজারে আলুর দামে ধস নামায় চরম বিপাকে পড়েছে কৃষক। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে আলুর জাত ভেদে প্রতিমণ মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

অথচ এক মণ আলু উৎপাদনে বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরি মিলিয়ে কয়েকগুণ বেশি খরচ হয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের হাজিরার টাকাও উঠছে না বলে জানান কৃষকরা।

ক্ষেতলাল উপজেলার কৃষক ফরহাদ হোসেন বলেন, আমরা অনেক আশা নিয়ে আলু চাষ করি। কিন্তু এবার দাম এত কম যে আলু বিক্রি করে খরচও উঠছে না।

তার ওপর বৃষ্টিতে ক্ষেত ডুবে গেছে। আলু তুলে রাখলেও পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন আমরা কী করবো বুঝতে পারছি না।
আরেক কৃষক তফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কোল্ড স্টোরেজে আলু রাখতে গেলেও বিপদ।

প্রতিমণ আলু রাখার ভাড়া ৪০০ টাকার বেশি। অথচ বাজারে আলুর দাম মাত্র ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা। তাহলে আমরা কীভাবে স্টোরেজ ভাড়া দেবো?’
কৃষকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর আলুর ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় তারা ক্ষতির মুখে পড়লেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয় না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কৃষকদের দাবি, কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রায়ই নানা আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কৃষকের দুঃখ-দুর্দশা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না।

পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিক রাসেল আহমেদ বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমল পেরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশেও কৃষকদের নিয়ে যেন এক ধরনের তামাশাই চলে আসছে।

কৃষিনির্ভর দেশের কৃষকরাই যখন ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন, তখন সেই তামাশার শেষ কোথায় এ প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে কৃষক সমাজে। কৃষকদের দাবি, আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, কোল্ড স্টোরেজ ভাড়া কমানো এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য জরুরি সহায়তা প্রদান করা এখন সময়ের দাবি। তা না হলে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষকই আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।

জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাদেকুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টি হওয়া এখন স্বাভাবিক বিষয়। কৃষকদের আলু তোলা শেষপর্যায়ে। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি আলুর জমির পানি দ্রুত নিষ্কাশন করতে। ক্ষতির সম্ভাবনা খুব কম।

📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের ইনস্টাগ্রাম ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর
Follow Us
Facebook Page Facebook Group WhatsApp Channel