দিনাজপুর

দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় সাহাপাড়া এলাকায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

সোমবার (১৬ মার্চ ২০২৬) বেলা সাড়ে ১২ টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের সাহাপাড়ায় এই খাল পূনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে দেশের ৫৩টি জেলায় খাল পূনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে।

পরে প্রধানমন্ত্রী রহমান তারেক রহমান স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এমপি, পানি সম্পদ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এমপি, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রানমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু এমপি, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি, দিনাজপুর-১ আসনে এমপি মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু, দিনাজপুর-২ আসনে এমপি সাদিক রিয়াজ চৌধুরী, দিনাজপুর সদর আসনের এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-৪ আসনের এমপি জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া প্রমূখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে হয়েছে। উদ্বোধনের দিন প্রায় হাজার স্বেচ্ছাসেবি খাল পূণঃ খনন কাজে অংশগ্রহণ করেছেন।

দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানিয়েছে, কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া থেকে মুকুন্দপুর পর্যন্ত প্রায় ১২ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কাহারোল উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই খাল পুনঃখননের ফলে প্রায় ১২০০ হেক্টর কৃষিজমি সেচের আওতায় আসবে। একই সঙ্গে প্রায় ৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা কমে যাবে বলে আশা স্থানীয়দের।

সূত্রটি জানায়, প্রকল্পের অংশ হিসেবে খালের মুখে একটি রেগুলেটর নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমে পানি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সংরক্ষণ করা যাবে। সংরক্ষিত পানি পরবর্তীতে শুষ্ক মৌসুমে সেচের কাজে ব্যবহার করা যাবে। এছাড়াও প্রকল্পের আওতায় রেগুলেটরের সঙ্গে একটি অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা স্থানীয় মানুষের যাতায়াত সহজ করবে।

দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ বলেন, খাল পুনঃখননের পাশাপাশি একটি আধুনিক রেগুলেটর স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে বর্ষাকালে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সংরক্ষিত পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

খাল পুনঃখনন প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান , দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাব এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে তারা নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আসছেন। খালটি পুনঃখনন হলে একদিকে যেমন জমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে, অন্যদিকে বর্ষাকালে জমিতে পানি জমে থাকার সমস্যাও কমে যাবে।

কৃষকরা জানান, সেচ সুবিধা বাড়লে তাদের ফসল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর ও মুকুন্দপুর ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষকরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। একই সঙ্গে এলাকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের ইনস্টাগ্রাম ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর
Follow Us
Facebook Page Facebook Group WhatsApp Channel