বিশ্ব

‘পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশ নয় ভারত’: জয়শঙ্কর

একটি সর্বদলীয় বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরান যুদ্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার বিষয়টি তুলে ধরেন। বৈঠকে উপস্থিত এক সদস্যের বরাত দিয়ে জানা যায়, ভারত এমন মধ্যস্থতার কাজ করবে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, ‘ভারত পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কাজ করবে না।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন।

ওই পোস্টে শাহবাজ শরীফ চলমান সংঘাতের সমাধানে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এরপর থেকেই ধারণা করা হচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে গোপনে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।

ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের ঘনিষ্ঠ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কারণেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে সূত্রগুলো এনডিটিভিকে জানিয়েছে। একটি সূত্র জানায়, পাকিস্তান ১৯৮১ সাল থেকেই এ ধরনের ভূমিকা পালন করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তান পরিচালিত ‘স্বার্থ বিভাগ’-এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করা হয় বলেও তারা উল্লেখ করেছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগেও পাকিস্তান বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতে মধ্যস্থতা করেছে। ২০২০ সালে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যে আলোচনায় এবং ২০১৯ সালে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছিল।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট মোকাবেলায় সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তার পক্ষে যুক্তি দিয়েছে ভারত।

তারা বলেছে, কথিত নিষ্ক্রিয়তা ও নীতিগত অস্পষ্টতার অভিযোগ সঠিক নয়। সরকারের দাবি, বিবৃতি দেওয়া, কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার মাধ্যমে ভারত পরিস্থিতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, সদস্যদের আরো জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরান থেকে প্রায় ৪ লাখ ২৫ হাজার ভারতীয়কে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আর যারা এখনও ইরানে রয়েছেন, তাদের স্বার্থ নজরদারি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ভারত সরকার জানিয়েছে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে।

তবুও এতে ভারতের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ইরানি তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। বৈঠকে আরো আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে এখন উদ্বেগের কিছু নেই এবং এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রয়েছে।

ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির বড় একটি অংশ রাশিয়া থেকে আসে। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, দেশটি বাস্তবসম্মত ও বৈচিত্র্যময় জ্বালানি কৌশল অনুসরণ করছে।

সরকার বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইসরায়েলও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ভারত নিজের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখে। এর মধ্যে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে।

সরকারের উদ্ধৃতি দিয়ে সূত্রটি আরো জানায়, ভারত এখনো জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের অংশ হিসেবে রয়েছে। তবে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিন্ন অবস্থানের কারণে ব্রিকস জোটের ভেতরে একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

সর্বদলীয় বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৈঠকে উত্থাপিত সব প্রশ্নের জবাব সরকার দিয়েছে এবং সবাই বলেছেন যে তারা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন।’

📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের ইনস্টাগ্রাম ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর
Follow Us
Facebook Page Facebook Group WhatsApp Channel