রাজশাহী

পাবনার অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন অনুজা

পাবনার নারীরা শুধু নিজের ভাগ্য উন্নয়ন ঘটাচ্ছে এমনটি না। নিজের ভাগ্য উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। নারী উদ্যোক্তা মহলে নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতা দিয়ে সমাজে সম্মানজনক জায়গাই করে নেননি; নিজে স্বাবলম্বী হয়েছেন, করেছেন বহু নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। এদেরই একজন অনুজা সাহা এ্যানি।

পাবনার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেলিম নাজির উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক (অব.) অমূল্য সাহা ও অঞ্জনা সাহার একমাত্র সন্তান অনুজা সাহা। বাবা-মায়ের অনেক স্বপ্ন ছিল তাদের একমাত্র সন্তান অনুজাকে ঘিরে। ছোট থেকেই নৃত্য এবং সংগীতে বেশ ভালো ছিলেন। নানা অনুষ্ঠান আর প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অর্জন করেন নানা পুরস্কার ও সনদ।

আলাপকালে অনুজা জানান, এইচএসসি পাস করার পর আকস্মিক তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি ছেলেসন্তান জন্ম নেয়। নাম রাখা হয় অর্ণব। স্বামীর ব্যবসায়িক অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক সংকটে সংসারজীবনে দিশেহারা হয়ে পড়েন অনুজা। এরই মধ্যে সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স পাস করেন অনুজা। বাবা মানুষ গড়ার কারিগর অমূল্য সাহার বহু প্রিয় ছাত্র দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পর্যায়ে চাকরি করলেও অনেক চেষ্টা-তদবির করে নিজের জন্য একটি সরকারি বা বেসরকারি চাকরি জোগাড় করতে পারেননি।

পত্র-পত্রিকায় দেশের বিভিন্ন স্থানের নারী উদ্যোক্তার গল্প পড়ে উদ্ধুদ্ধ হন অনুজা। চাকরির আশা ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা করার পরিকল্পনা নেন তিনি। অনুজার মা অঞ্জনা সাহা মেয়ের ব্যবসা করার ব্যাপারে প্রথম দিকে অনাগ্রহী ছিলেন। সংসারজীবনের নির্মম বাস্তবতার কশাঘাতে মেয়ে যখন জর্জরিত, মা তখন সম্মতি দেন ব্যবসা করার।

অনুজা সাহার মা ছিলেন সুদক্ষ রাঁধুনি। তাই মেয়ে সিদ্ধান্ত নেন, খাবারের ব্যবসা করার। মায়ের সহযোগিতায় স্বল্প পুঁজি নিয়ে ক্ষুদ্র পরিসরে খাবারের হোম ডেলিভারি সার্ভিস চালু করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানের নাম দেওয়া হয় অর্ণব অ্যান্ড কোং। হোম ডেলিভারি সার্ভিস থেকে নানা ধরনের পিঠা, কেক, মিষ্টি, বেকারি আইটেম, সাদা ভাত, বিরিয়ানি সরবরাহ শুরু হয় পাবনার নানা স্থানে। ধীরে ধীরে এ ব্যবসার প্রসার ঘটতে থাকে। পুঁজির পরিমাণও বেড়ে যায়।

এখানেই থেমে যাননি অনুজা। বিসিক, যুব উন্নয়ন, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর থেকে ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ নেন। শুরু করেন বুটিক হাউস। সেটিও আলোর মুখ দেখতে থাকে। পাশাপাশি নৃত্য ও সংগীত চর্চায় পারদর্শী অনুজা গড়ে তোলেন ‘মন ময়ূরী’ নামের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। সেখানে আর্ট, নৃত্য, সংগীত, আবৃত্তি, সুন্দর হাতের লেখা শেখানো শুরু হয় কোমলমতি শিশুদের।

তবে বর্তমানে সেসব বাদ দিয়ে পাবনা মধ্য শহরের জেলা পরিষদসংলগ্ন একটি মার্কেটে গড়ে তোলেন মায়ের পরশ নামে খাবার হোটেল।

সকালে ১০ টাকার নাশতায় রুটি-পরোটা, সবজি-ডাল, দুপুর ও রাতে ১০০ টাকায় ভালো খাবার, বিকেল-সন্ধ্যায় লুচি, আলুরদম, পাপড় চাটসহ নানা স্বাদের মুখরোচক খাবার। খাবারের আইটেম প্যাকেজভেদে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন দাম। তবে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ১৫০ টাকায় আনলিমিটেড কাচ্চি বিরিয়ানির অফার বেশ সাড়া ফেলেছে।

স্থানীয়দের মতে, অনুজার মতো নারীরাই একদিন শুধু পাবনা নয়, পুরো দেশের অর্থনীতির চিত্র পাল্টে দেবে।

📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের ইনস্টাগ্রাম ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর
Follow Us
Facebook Page Facebook Group WhatsApp Channel