ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি এত দিন বয়স্ক ও ধূমপায়ীদের রোগ হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, নগর দূষণ, জীবনধারার পরিবর্তন এবং নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে এখন ৪০ বছর বয়সেই অনেকের ফুসফুস দুর্বল হয়ে পড়ছে। এমনকি অধূমপায়ীরাও এই ঝুঁকি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না।
আর তাই কিভাবে এই রোগ থেকে বেঁচে থাকবেন, তা নিয়ে আজকর প্রতিবেদন।
চলুন, জেনে নেওয়া যাক—
ধূমপানের বাইরে সিওপিডি : উদীয়মান কারণ
যদিও ধূমপান সিওপিডি-এর জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী ঝুঁকির কারণ, তবে এখন এটি আর একমাত্র কারণ নয়। বর্তমানে অধূমপায়ীদেরও সিওপিডি-তে আক্রান্ত হওয়ার ক্রমবর্ধমান সংখ্যা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিবর্তনশীল প্রবণতার পেছনে নিম্নলিখিত কারণগুলো মূলত অবদান রাখে।
নগর বায়ু দূষণ ও ক্রমবর্ধমান দূষণ কণার মাত্রা
দৈনন্দিন দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে আসা ফুসফুসের কার্যকারিতা ধীরে ধীরে প্রভাবিত হয় এবং এটি সিওপিডি ও ফুসফুসের ক্যান্সারের সঙ্গে যুক্ত বলে ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে।
বাড়িতে জৈব জ্বালানির সংস্পর্শে আসা
রান্নার ধোঁয়া, বিশেষ করে যখন কেউ দুর্বল বায়ুচলাচলযুক্ত রান্নাঘরে কাজ করে বা জৈব জ্বালানি ব্যবহার করে, তা দীর্ঘমেয়াদে সিওপিডি-এর ঝুঁকি বাড়ায়। নারীদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
পেশাগত ঝুঁকি
কারখানার কর্মী, নির্মাণ কর্মী, স্যানিটেশন কর্মী ও কৃষি শ্রমিকরা সবাই সংশ্লিষ্ট পরিবেশে শ্বাস-প্রশ্বাসের কারণে ঝুঁকিতে থাকেন, যা এক সময়ে গিয়ে সিওপিডি-এর দিকে পরিচালিত করতে পারে।
শৈশবে ঘন ঘন শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ
শৈশব সংক্রমণ, অকালে জন্ম, জন্মের সময়ে ওজন—এসব কিছুই পরবর্তী সময়ে সিওপিডি-এর বিকাশের সঙ্গে যুক্ত।
সিওপিডি হলো পরিবর্তনশীল মাত্রার একটি রোগ, যা আর কেবল ধূমপায়ী বা বয়স্কদেরই প্রভাবিত করে না। তাই, প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্তকরণ অপরিহার্য।
৪০ বছরের পরে ফুসফুসের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন গুরুত্বপূর্ণ
যদিও একটি নির্দিষ্ট বয়সের পরে প্রতিরোধমূলক কার্ডিয়াক চেক-আপ নিয়মিত হয়ে উঠেছে, ফুসফুসের চেক-আপও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। ৪০ বছর বয়সের পর ফুসফুসের স্থিতিস্থাপকতা স্বাভাবিকভাবেই হ্রাস পায় এবং এক্সপোজারের কারণে পরিবর্তনগুলো দেখা দিতে শুরু করে। দুর্ভাগ্যবশত প্রাথমিক পর্যায়ে সিওপিডি প্রায়শই নিরবে দেখা দেয় এবং লক্ষণগুলোকে বয়স-সম্পর্কিত ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্ট বলে ভুল করা হয়।
প্রাথমিক সতর্কতা লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে—
- দীর্ঘস্থায়ী হালকা কাশি
- পরিশ্রমের সময় শ্বাসকষ্ট, যেমন সিঁড়ি বেয়ে ওঠা
- শ্বাসকষ্ট বা বুকে ঘড়ঘড়ে শব্দ
- সকালে গলায় জ্বালা এবং থুতু
- ঘন ঘন ঠাণ্ডা লাগার মতো সমস্যা
এই লক্ষণগুলো সাধারণত ফুসফুসের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস না হওয়া পর্যন্ত নির্ণয় করা হয় না।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সিওপিডি প্রাথমিক পর্যায়ে সব হাসপাতালে একটি সাধারণ স্পাইরোমেট্রি পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই নির্ণয় করা যেতে পারে কোনো লক্ষণ অনুভব করার অনেক আগেই। এই ব্যথাহীন পরীক্ষাটি বায়ুপ্রবাহ এবং প্রতিটি ফুসফুস কতটা বাতাস ধারণ করতে পারে, তা পরিমাপ করে। এইভাবে শ্বাসযন্ত্রের রোগগুলো নির্ভুলতার সঙ্গে নির্ণয়ে সহায়তা করে।
জীবনধারা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ
যেহেতু অল্প বয়সেও সিওপিডি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে, সেই জন্য প্রাথমিক শনাক্তকরণের সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ রোগের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর করতে পারে। মূল সুপারিশের মধ্যে রয়েছে—
- ৪০ বছর পর বার্ষিক ফুসফুস পরীক্ষা
- ধূমপান ও প্যাসিভ স্মোকিং পরিহার
- দূষণে মাস্ক ব্যবহার
- শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, হাঁটাচলার অভ্যাস
- অ্যালার্জি বা দীর্ঘস্থায়ী কাশি হলে চিকিৎসা
- ফ্লু ও নিউমোনিয়া প্রতিরোধে টিকা
সিওপিডি : বর্তমানের আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি
আধুনিক ইনহেলার, শ্বাসপ্রশ্বাস পুনর্বাসন, ভ্যাকসিনেশন—সব মিলিয়ে এখন সিওপিডি নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ। সময়মতো রোগ নির্ণয় করা গেলে এবং চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করলে রোগীরা শারীরিকভাবে সক্রিয় এবং স্বাধীন জীবনযাপন করতে পারেন।
সিওপিডি যে দিন দিন খারাপ অবস্থার দিকে নিয়ে যায় সেই ধারণা বর্তমানের চিকিৎসাগত অগ্রগতি পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে। তাই এখনই ফুসফুসের যত্ন নিন, নিয়মিত পরীক্ষা করুন। আর যদি বিলম্ব করেন, তাহলে প্রাণঘাতী হতে পারে।
সূত্র : নিউজ ১৮
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।