পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের ছুটি ও স্বাধীনতা দিবসের বিরতি কাটিয়ে রাজধানীতে ছুটছে চাকরিজীবীসহ তাদের পরিবার। আজ শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকামুখী মানুষের ঢল নেমেছে। মূলত আগামীকাল রোববার থেকে পুরোদমে অফিস-আদালত শুরু হতে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিটি ট্রেনেই ছিল যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়।
এবারের ঈদযাত্রায় ২৪ ও ২৫ মার্চ অফিস খোলা থাকলেও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং পরবর্তী দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় অনেকেই অতিরিক্ত ছুটি নিয়ে গ্রামে গিয়েছিলেন। সেই ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় আজ শেষ মুহূর্তে স্টেশনে যাত্রীদের চাপে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। অনেক ট্রেনের ভেতরে কানায় কানায় পূর্ণ থাকার পাশাপাশি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাদে চড়েও অনেককে ফিরতে দেখা গেছে।
কমলাপুর স্টেশনে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থেকে আসা ‘সুন্দরবন এক্সপ্রেস’-এর যাত্রী সাকিবুল ইসলাম জানান, তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রার জন্য ট্রেন বেছে নিলেও ভিড়ের কারণে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। তবে ট্রেন নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানোয় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে, এসি কামরার যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভও দেখা গেছে। সুমি আক্তার নামে এক যাত্রী অভিযোগ করেন, তার এসি কামরার টিকিট থাকলেও দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ যাত্রীরা ভেতরে ঢ়ুকে পড়ায় অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, “আসনবিহীন যাত্রীরা এসি কামরায় ঢ়ুকে পড়ায় মালামাল নিয়ে ঝুঁকিতে থাকতে হয়েছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।”
ঈদের আগমুহূর্তে চিলাহাটি এক্সপ্রেসের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীরা কিছুটা ভোগান্তিতে পড়লেও ফিরতি যাত্রায় ট্রেনগুলো সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে। নওগাঁ থেকে আসা যাত্রী ইমন মিয়া জানান, শুরুতে নিজের আসনে বসতে কষ্ট হলেও ট্রেন সঠিক সময়ে স্টেশনে পৌঁছেছে।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, যাত্রীদের চাপ সামলাতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। আজ দিনভর কয়েক ডজন ট্রেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় পৌঁছেছে। বিকেল ও রাতে যাত্রীদের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।