রংপুর বিভাগ

হিমালয়ের গৃধিনী শকুন মিললো রংপুরের লোকালয়ে

রংপুরে বিশাল আকৃতির একটি হিমালয়ী গৃধিনী শকুন উদ্ধার করা হয়েছে। হিমালয় পর্বতমালায় প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে শকুনটি উড়তে উড়তে সেখানে চলে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

সর্বশেষ সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে হিমালয় গৃধিনী শকুনটিকে আনা হয় রংপুরের কারমাইকেল কলেজ ক্যাম্পাসে। এর আগে রোববার জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার বড়বালা ইউনিয়নের তরফবাহাদি গ্রামের একটি বাড়ি থেকে শকুনটি উদ্ধার করা হয়।

বন্য প্রাণি উদ্ধারকর্মীরা জানান, শীত মৌসুমে হিমালয়ে থাকা গৃধিনী শকুন উষ্ণতা ও খাবারের খোঁজে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে চলে আসে। ক্ষুধার্ত অবস্থায় দীর্ঘ প্রায় ৭’শ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে গিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে তারা।

উড়তে উড়তে এক সময় লোকালয়ের গাছে, বাড়ির আঙ্গিনা কিংবা ঝোপ-ঝাড়ে পড়ে যায়। ঠিক একইভাবে এই শকুনটিও দুর্বল হয়ে তরফবাহাদি গ্রামের একটি বাড়িতে পড়ে যায়। খবর পেয়ে শকুনটিকে উদ্ধার করেন বন্য প্রাণি উদ্ধারকর্মীরা।

সাপ ও বন্য প্রাণি উদ্ধার কর্মী লিজেন আহমেদ প্রান্ত বলেন, গত বছর প্রায় ২০টির মত হিমালয়ী গৃধিনী শকুন উত্তরাঞ্চলে উদ্ধার করা হয়েছে। এ মৌসুমে প্রথম মিঠাপুকুরে একটি শকুন উদ্ধার করা হলো। আমরা শোনা মাত্রই ঘটনাস্থলে গিয়ে শকুনটি উদ্ধার করে নিয়ে আসি। দীর্ঘপথ অতিক্রম করায় শকুনটি খাবারের অভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তাকে খাবার ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ায় মোটামুটি সুস্থ হয়েছে। শকুনটি আমরা সামাজিক বন বিভাগকে হস্তান্তর করেছি।

সামাজিক বন বিভাগের বন্য প্রাণি ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা স্মৃতি সিংহ রায় বলেন, প্রতি বছর উত্তরাঞ্চল থেকে উদ্ধার হওয়া গৃধিনী শকুনগুলোকে দিনাজপুর বিরলের শকুন পরিচর্যা কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে শকুনগুলো সুস্থ হয়ে উঠলে; তা প্রকৃতিতে উন্মুক্ত করা হয়। আমাদের আহ্বান থাকবে হিমালয় গৃধিনী শকুনসহ পরিযায়ী কোনো পাখি অসুস্থ অবস্থায় লোকালয়ে দেখা গেলে, পাখিগুলো উদ্ধারে সামাজিক বন বিভাগকে জানিয়ে সহযোগিতা করুন।

📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের ইনস্টাগ্রাম ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর
Follow Us
Facebook Page Facebook Group WhatsApp Channel