বিশ্ব

২৪ ঘণ্টা পরও কুয়েত বিমানবন্দরে জ্বলছে আগুন

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি ট্যাংকে ইরানের ছোড়া ড্রোন আঘাত হানার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাত পর্যন্ত বিমানবন্দরের ওই স্থাপনায় দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দেশটির ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

বুধবার দিবাগত রাতে ইরানের দুটি ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে সরাসরি এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্রে আঘাত হেনেছিল। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও মাত্র একটি বা দুটি ড্রোন যদি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়, তবে তার ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হয় অত্যন্ত ভয়াবহ এবং দীর্ঘস্থায়ী।

সংঘাতের তীব্রতা ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোতেও। গত কয়েক ঘণ্টায় পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসিভুক্ত দেশগুলোতে ইরানের সিরিজ হামলার খবর পাওয়া গেছে।

বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, দেশটির মুহাররাক এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে সেখানে লাগা আগুন সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা দ্রুত নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন এবং প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বাহরাইন সরকার বর্তমানে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার পদক্ষেপ নিয়েছে।

একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্থানে বিপদ সংকেত বা সাইরেন বেজে ওঠায় জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুবাই ও আবুধাবির মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সৌদি আরব জানিয়েছে যে তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা ১০টিরও বেশি ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। উল্লেখ্য যে, সৌদি আরবের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো এই পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশেই অবস্থিত। তেহরানের এই ধারাবাহিক হামলা মূলত ওই অঞ্চলের তেল উৎপাদন ও রপ্তানি প্রক্রিয়াকে অস্থিতিশীল করার একটি পরিকল্পিত কৌশল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে এখন এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। ইরানের এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি বর্তমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এক বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে কুয়েত বিমানবন্দরে দীর্ঘসময় ধরে জ্বলতে থাকা আগুন দেশটির বিমান চলাচল ও লজিস্টিক সহায়তাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই সংঘাতের বিস্তার রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, কারণ এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা।

📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের ইনস্টাগ্রাম ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর
Follow Us
Facebook Page Facebook Group WhatsApp Channel