নওগাঁর মান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ঠাকুরমান্দার রঘুনাথ জিউ মন্দিরে রাম নবমী উপলক্ষে নেমেছিল হাজারো ভক্ত-দর্শনার্থীর ঢল।
শুক্রবার ভোরে পুজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে মন্দিরের প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হয়। দিনভর সেখানে ভক্তদের সমাগমে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত এই মন্দির প্রাঙ্গণ ঘিরে কীর্তন, প্রসাদ বিতরণ, ভোগ নিবেদন ও পূজা-অর্চনায় মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।
ভক্তদের পদচারণায় মন্দির এলাকা মিলনমেলায় পরিণত হয়। উৎসব উপলক্ষে মন্দির সংলগ্ন ঠাকুরমান্দা বাজারে আয়োজন করা হয় গ্রামীণ মেলার, যা দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ যোগ করে।
দুপুরে রাম নবমীর অনুষ্ঠানে যোগ দেন নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান এবং ভারতের সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার। এ সময় মান্দা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাওন, মান্দা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল গণিসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, এক সময় মন্দিরের পূর্ব পাশ দিয়ে প্রবাহিত শিবনদ ছিল ভক্তদের জন্য পবিত্র স্নানের স্থান। অতীতে ভক্তরা নদীতে গঙ্গাস্নান করে পদ্মপাতা মাথায় নিয়ে ঠাকুর দর্শনে যেতেন। তবে সময়ের পরিক্রমায় নদীর সেই জৌলুস হারিয়ে গেছে; এখন বিলে নেই পানি, নেই পদ্মপাতা। তবুও ভক্তরা ঐতিহ্য ধরে রাখতে মন্দির সংলগ্ন পুকুরে স্নান করে ভোগের মিষ্টান্ন নিয়ে প্রার্থনায় অংশ নেন।
এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভক্তরা এখানে আসেন মানত পূরণ ও পূজা দিতে। মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সত্যেন্দ্রনাথ প্রামাণিক জানান, ভোরে পুজা-অর্চনার পর মন্দিরের প্রবেশ পথ খুলে দেওয়া হয়। দিনভর ভক্তদের জন্য পদাবলী কীর্তন ও ভজন সংগীতের আয়োজন করা হয়েছে।
মন্দির কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি মনোজিৎ কুমার সরকার বলেন, উৎসবকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছেন এবং পুরো মন্দির এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আগামী ৪ এপ্রিল লক্ষণ ভোগের মধ্য দিয়ে ৯ দিনব্যাপী এই ধর্মীয় উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।