রংপুর বিভাগ

লালমনিরহাটে ৬ প্রতিষ্ঠানে পাস করেননি কেউ

এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে লালমনিরহাটে হতাশার চিত্র দেখা গেছে। জেলার ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। অন্যদিকে, জেলায় সামগ্রিক পাসের হার ৪৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বোর্ডের অধীন আট জেলার ৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবার কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে লালমনিরহাটের ছয়টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

শূন্য পাসের তালিকায় থাকা ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলার তিনটি, হাতীবান্ধা উপজেলার দুটি এবং আদিতমারী উপজেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, হাতীবান্ধা মডেল কলেজ থেকে ১১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউ পাস করতে পারেননি। একই উপজেলার আমিনুর রহমান কলেজ থেকে একজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও তিনিও অকৃতকার্য হয়েছেন। কালীগঞ্জ উপজেলার সোনারহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে দুজন, দুহুলী এসসি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে একজন এবং দক্ষিণ ঘনশ্যাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে একজন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এ ছাড়া আদিতমারী উপজেলার গন্ধমরুয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুজনও অকৃতকার্য হয়েছেন।

এদিকে, জেলার সামগ্রিক ফলাফলও সন্তোষজনক নয়। এ বছর লালমনিরহাট থেকে মোট ৭ হাজার ৪৫৫ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৩৩৫ জন ছাত্র ও ৪ হাজার ১২০ জন ছাত্রী। মোট উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩ হাজার ৪৮২ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ৩৬৩ জন এবং ছাত্রী ২ হাজার ১১৯ জন।

জেলায় গড় পাসের হার ৪৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। ছাত্রদের পাসের হার ৪০ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৫১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ বছর জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১০২ জন। তাদের মধ্যে ৩৬ জন ছাত্র এবং ৬৬ জন ছাত্রী।

সামগ্রিক পাসের হারে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন আট জেলার মধ্যে লালমনিরহাটের অবস্থান তৃতীয়। তবে পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে থাকায় জেলার শিক্ষার সার্বিক মান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, নিয়মিত পাঠদানের ঘাটতি, চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকসংকটসহ নানা কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ এবং নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা না গেলে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন কঠিন হবে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে লালমনিরহাট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের ইনস্টাগ্রাম ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর
❮
Follow Us
Facebook Page Facebook Group WhatsApp Channel
✖
আমাদের সাথে Facebook-এ থাকুন
Facebook Page লোড হচ্ছে...