ইউরোপের অন্তত ১১টি দেশে সুপারমার্কেটের কম্পিউটার ও শীতলীকরণ ব্যবস্থায় সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। জার্মানি, রোমানিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশে এমন হামলার পর খাদ্যপণ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থায় বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন হামলা হিসেবে দেখতে নারাজ। সংস্থাটি বলেছে, বিভিন্ন দেশে একই ধরনের সাইবার আক্রমণের ঘটনা ঘটায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
৪ নভেম্বর আলজাজিরার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুপারমার্কেটের ফ্রিজ ও খাদ্য সংরক্ষণের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী ব্যবস্থায় হ্যাকারদের অনুপ্রবেশের পর কিছু দোকানে সংরক্ষিত খাবার নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সুইডেনের একটি সুপারমার্কেটের ফ্রিজের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নষ্ট হয়ে যাওয়া বা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকা খাবার সরিয়ে ফেলতে দেখা গেছে কর্মীদের।
সুইডেনের সিওবো শহরের আইসিএ কোয়ান্টাম সুপারমার্কেটে হামলার পর ফ্রিজের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল বলে আলজাজিরার ছবির বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সেখানে সংরক্ষিত খাবার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। কর্মীদের খাবার সরিয়ে ফেলতে হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অন্তত ১১টি দেশে সুপারমার্কেট-সংশ্লিষ্ট সাইবার হামলার খবর পাওয়া গেছে। এ কারণে একে বিচ্ছিন্ন কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। হামলাগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে হামলার পেছনে কোনো রাষ্ট্রীয় পক্ষ জড়িত কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। রোমানিয়ার এক কর্মকর্তা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, এর পেছনে রাষ্ট্রীয় কোনো পক্ষ নাও থাকতে পারে। অর্থাৎ সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী বা আর্থিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত কোনো নেটওয়ার্কও হামলার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।
সুপারমার্কেটের সাইবার নিরাপত্তা এখন ইউরোপের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। আধুনিক দোকানগুলোতে পণ্যের মজুত, বিক্রির হিসাব, সরবরাহ এবং শীতলীকরণ ব্যবস্থা অনেকাংশে ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। এসব ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ ঘটলে শুধু কম্পিউটার ব্যবস্থাই নয়, খাদ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহেও প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে মাংস, মাছ, দুগ্ধজাত পণ্য ও হিমায়িত খাবার নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। শীতলীকরণ ব্যবস্থায় দীর্ঘ সময় সমস্যা দেখা দিলে পণ্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। এ কারণে ইউরোপের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সুপারমার্কেট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
তবে সব দেশে একই ধরনের ক্ষতি হয়েছে কি না, কতটি দোকান আক্রান্ত হয়েছে এবং মোট কত পরিমাণ খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়েছে—এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশিত হয়নি। হামলার উৎস ও উদ্দেশ্য নিয়েও তদন্ত চলছে।
সূত্র: আলজাজিরা
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।