কাজাখস্তান দ্বিতীয় সাইবেরীয় বাঘকে বন্য পরিবেশে অবমুক্ত করেছে। ‘আমুর’ নামের পুরুষ বাঘটিকে দেশটির একটি সংরক্ষিত প্রাকৃতিক এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সাইবেরীয় বাঘের সংখ্যা বাড়ানো এবং প্রাকৃতিক পরিবেশে তাদের পুনর্বাসনের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
৪ নভেম্বর আলজাজিরার এশিয়া বিভাগের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে দেশটিতে একটি সাইবেরীয় বাঘ অবমুক্ত করা হয়েছিল। এবার দ্বিতীয় বাঘকে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে কাজাখস্তানের পুনর্বাসন কর্মসূচি আরও এক ধাপ এগিয়েছে।
সাইবেরীয় বাঘ বিশ্বের সবচেয়ে বড় বন্য বিড়ালজাতীয় প্রাণীদের একটি। একসময় রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চল, চীন এবং মধ্য এশিয়ার বিস্তৃত এলাকায় এদের বিচরণ ছিল। কিন্তু শিকার, বনভূমি ধ্বংস এবং মানুষের বসতি সম্প্রসারণের কারণে তাদের আবাসস্থল সংকুচিত হয়েছে।
কাজাখস্তানে বাঘ পুনর্বাসনের উদ্যোগের লক্ষ্য হলো উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে বাঘ দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারে। এ ধরনের কর্মসূচিতে শুধু বাঘ অবমুক্ত করাই যথেষ্ট নয়; তাদের খাদ্য, নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র এবং প্রজননের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।
আমুরকে যে সংরক্ষিত এলাকায় ছাড়া হয়েছে, সেখানে বাঘের জন্য উপযুক্ত আবাসস্থল তৈরি ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে অবমুক্তির পর বাঘটির চলাচল, খাদ্য গ্রহণ এবং নতুন পরিবেশে অভিযোজন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
প্রকৃতিতে বাঘের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যও গুরুত্বপূর্ণ। বাঘ খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষ শিকারি প্রাণী। তাদের উপস্থিতি হরিণসহ অন্যান্য তৃণভোজী প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। ফলে বাঘ সংরক্ষণে সফলতা পেলে বনাঞ্চলের সামগ্রিক পরিবেশের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
কাজাখস্তানের এ উদ্যোগ মধ্য এশিয়ায় বাঘের ঐতিহাসিক বিচরণক্ষেত্র পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত। তবে প্রকৃতিতে বাঘের স্থায়ী জনসংখ্যা প্রতিষ্ঠা করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
সূত্র: আলজাজিরা।
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।