যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণই ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আগামী দুই বছর আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং প্রশাসনিক নীতি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে। মঙ্গলবারের নির্বাচনের ফল বুধবার প্রকাশিত হলে দেখা যায়, ডেমোক্র্যাটরা এমন কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও জয় পেয়েছে, যেগুলো ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দিয়েছিল।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা টেক্সাস, আইওয়া, কানসাস, ওহাইও, মেইন, নর্থ ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনাসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসন নিজেদের দখলে নিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিনিধি পরিষদের বেশ কয়েকটি আসনেও রিপাবলিকানদের হারিয়েছে তারা। নির্বাচনের আগে যেসব আসনকে রিপাবলিকানদের নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল, সেসব জায়গাতেও ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য দলটির নির্বাচনী অগ্রগতির ব্যাপ্তি তুলে ধরেছে।
এই ফলাফলের রাজনৈতিক গুরুত্ব কেবল কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বদলে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেরই ভূমিকা রয়েছে। কোনো দল দুই কক্ষ নিয়ন্ত্রণ করলে প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া তুলনামূলক সহজ হয়। বিপরীতে বিরোধী দল দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে প্রশাসনের প্রস্তাবিত আইন, বাজেট ও নীতিগত উদ্যোগ আটকে দেওয়ার বা পরিবর্তনের সুযোগ পায়। ফলে ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে যেতে যাচ্ছে।
এবারের নির্বাচনে ভোটারদের অসন্তোষের পেছনে কয়েকটি বিষয় কাজ করেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ইরান যুদ্ধ এবং সরকারি কর্মকাণ্ডে দুর্নীতির উদ্বেগ ভোটারদের আলোচনায় ছিল। এপি ভোটার জরিপের তথ্য অনুযায়ী, অনেক ভোটার মনে করেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন। নির্বাচনের প্রচারে ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে সক্রিয় ছিলেন এবং ভোটারদের তাঁকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু ফলাফল তাঁর দলের প্রত্যাশার বিপরীত হয়েছে।
নির্বাচনের পর ট্রাম্প পরাজয়ের দায় নিজের ওপর নিতে চাননি। ফক্স নিউজে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী প্রচারের প্রশংসা করেন এবং রিপাবলিকান প্রার্থীদের দুর্বলতার কথা উল্লেখ করেন। অর্থাৎ ফলাফলকে নিজের প্রেসিডেন্সির বিরুদ্ধে সরাসরি গণরায় হিসেবে দেখার প্রবণতা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে নির্বাচনের ফলাফল তাঁর প্রশাসনের রাজনৈতিক অবস্থান যে দুর্বল করেছে, তা স্পষ্ট।
ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের নেতৃত্বেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস নতুন কংগ্রেসে স্পিকার হওয়ার পথে রয়েছেন। তিনি নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হবেন। স্পিকার প্রতিনিধি পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা, আইন প্রণয়নের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন।
মিনেসোটায় জয়ী পেগি ফ্লানাগানও ইতিহাস গড়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আদিবাসী নারী সিনেটর হতে যাচ্ছেন। তাঁর জয় দেশটির রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে মিশিগানের নির্বাচনে আবদুল এল-সাইয়েদ জয়ী হওয়ায় তিনি সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছেন বলে এপি জানিয়েছে।
নর্থ ক্যারোলাইনাতেও ডেমোক্র্যাটরা রাজ্য প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। এতে রাজ্যটির ডেমোক্র্যাট গভর্নর জশ স্টেইনের আইনগত উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ বাড়বে। এর আগে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত আইনসভা গভর্নরের বেশ কয়েকটি ভেটো অতিক্রম করে আইন পাস করেছিল। নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠতা রাজ্যটির রাজনৈতিক ভারসাম্যও বদলে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক সতর্কবার্তা। কংগ্রেসের দুই কক্ষ বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ায় প্রশাসনের প্রতিটি বড় সিদ্ধান্তে বিরোধিতার মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে নির্বাচনের ফলের বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হওয়ার পর দলগুলোর অবস্থান, আইন প্রণয়ন এবং প্রশাসনের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ওপর।
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।