দিনাজপুর

বৈষম্য নিরসন ও চাকুরি রাজস্বখাতে স্থানান্তরের দাবিতে দিনাজপুর সরকারি কলেজে মানববন্ধন

দিনাজপুর প্রতিনিধি: “বৈষম্য থেকে মুক্তি চাই, চাকুরি রাজস্বখাতে স্থানান্তর চাই” — এই স্লোগানকে সামনে রেখে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে দিনাজপুর সরকারি কলেজ বেসরকারি কর্মচারী ইউনিয়ন।

রবিবার (২৪ মে) সকালে দিনাজপুর সরকারি কলেজ গেটের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা দিনাজপুর জেলা প্রশাসক ও কলেজ অধ্যক্ষের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন।

মানববন্ধনে সরকারি কলেজে কর্মরত বেসরকারি ও অত্যাবশ্যকীয় কর্মচারীরা অংশ নেন। এসময় তারা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো— চাকুরি রাজস্বখাতে স্থানান্তর, বৈষম্য থেকে মুক্তি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেও কেন তারা বেসরকারি থাকবেন তার জবাব প্রদান।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ৩৫০টি সরকারি কলেজে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদে বহু কর্মচারী দীর্ঘ ২০ থেকে ৩৫ বছর ধরে বেসরকারিভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকেও তারা এখনো চাকুরির স্থায়িত্ব, ন্যায্য বেতন-ভাতা ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।

তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে মাসে মাত্র ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা বেতনে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। অথচ একই প্রতিষ্ঠানে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলেও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কর্মচারীরা রয়ে গেছেন অবহেলিত ও বৈষম্যের শিকার।

বক্তারা আরও বলেন, ১৯৯১ সালের নিয়োগ বিধি অনুযায়ী কলেজের শূন্য পদে স্থানীয়ভাবে নিয়োগের সুযোগ ছিল এবং জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অস্থায়ী কর্মচারীদের অনেকেই রাজস্বখাতে অন্তর্ভুক্ত হতেন। কিন্তু ২০০৪ সালের পর কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগ ব্যবস্থা চালু হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত এসব কর্মচারী সেই সুযোগ থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হন।

এসময় তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পরিপত্রের উল্লেখ করে বলেন, অস্থায়ী ও অত্যাবশ্যকীয় কর্মচারীদের নিয়োগ ও মজুরি প্রদানের বিধান থাকলেও তাদের চাকুরি স্থায়ীকরণ বা রাজস্বখাতে স্থানান্তরের বিষয়ে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিগত সময়ে তারা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি, অনশন, সাংবাদিক সম্মেলন ও স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বাস্তবসম্মত কোনো সমাধান না পাওয়ায় তারা চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

সবশেষে বক্তারা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সরকারি কলেজে কর্মরত বেসরকারি ও অত্যাবশ্যকীয় কর্মচারীদের চাকুরি রাজস্বখাতে স্থানান্তরের জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সরকারি কলেজের বেসরকারি কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, দিনাজপুর সিটি কলেজের সভাপতি মোছাঃ জেবুন্নেসা, দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজ-এর নাজমা ইয়াসমিন লিপি এবং আমিনুল ইসলাম।

📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের ইনস্টাগ্রাম ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর
Follow Us
Facebook Page Facebook Group WhatsApp Channel