দিনাজপুর প্রতিবেদক॥ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-২৬ এ প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে দিনাজপুর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ফাইনালে সেতাবগঞ্জ সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়কে ৪৫ রানে পরাজিত করে শিরোপা জেতে দলটি।
রোববার (২৪ মে) দিনাজপুর স্টেডিয়ামে জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে ও প্রাইম ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম।
দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিসিবির কাউন্সিলর রেহাতুল ইসলাম খোকা এবং জেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক কাজী মামুনুর রশিদ কচি।
বিসিবির জেলা ক্রিকেট কোচ মো. আনোয়ারুল ইসলাম সুমি জানান, বৈরি আবহাওয়ার কারণে ম্যাচটি ২৫ ওভারে নির্ধারণ করা হয়। টসে জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সেতাবগঞ্জ সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দিনাজপুর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্ধারিত ২৫ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে রাইয়ান ইসলাম সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেন। সেতাবগঞ্জের হয়ে লুবানাল মেহেদী লিপ্ত ও সামিউল ইসলাম ৩টি করে উইকেট নেন।
জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে সেতাবগঞ্জ সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। কালেক্টরেট স্কুলের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে দলটি ২১ দশমিক ৫ ওভারে মাত্র ৯৯ রানে অলআউট হয়। ফলে ৪৫ রানের বড় জয় নিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে দিনাজপুর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
চ্যাম্পিয়ন দলের বোলার আসিফ ও সাব্বির দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। এছাড়া ৬৭ বলে ৬৭ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলে ম্যান অব দ্য ফাইনাল নির্বাচিত হন চাম্পিয়ন দলের রাইয়ান ইসলাম।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে ক্রিকেটের প্রসারে স্কুল ক্রিকেটের গুরুত্ব অপরিসীম। এ ধরনের টুর্নামেন্টের মাধ্যমে নতুন ক্রিকেট প্রতিভা উঠে আসবে। তিনি বিজয়ী দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দিনাজপুরে আরও দুটি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে এবং জেলা স্টেডিয়ামের উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপাতত খেলোয়াড়দের বিশুদ্ধ পানির সুবিধার্থে একটি সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপনের ঘোষণা দেন তিনি।
পরে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও প্রাইজমানি তুলে দেন অতিথিরা। ম্যাচ পরিচালনা করেন আম্পায়ার এস.এম. রফিক ও জিসান খন্দকার। স্কোরারের দায়িত্ব পালন করেন গুলজার হোসেন।
উল্লেখ্য, গত ১৭ মে ২০২৬ তারিখে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়। এতে ক এবং খ গ্রুপে ৬টি স্কুল অংশগ্রহণ করে। স্কুলগলো হলো : ক গ্রুপে চেহেলগাজী শিক্ষা নিকেতন স্কুল এন্ড কলেজ, সেতাবগঞ্জ সরকারী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় এবং পুলিশ লাইন উচ্চ বিদ্যালয়। খ গ্রুপে দিনাজপুর একাডেমী, দিনাজপুর জিলা স্কুল এবং দিনাজপুর কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ।
অংশগ্রহনকারী ৪টি স্কুলকে বিসিবি’র পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলকে ১৪ হাজার টাকার প্রাইজমানি প্রদান করা হয়।
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।