ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের মাত্র নয় দিন আগে ট্রাম্পের এই অবস্থান নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক গুরুত্ব যোগ করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি নেতানিয়াহুকে শক্তিশালী ও সাহসী নেতা হিসেবে বর্ণনা করেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থানের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেন।
ট্রাম্পের বক্তব্যে ইসরায়েলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের বিষয়টিও উঠে আসে। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা সহজ হবে—এমন অবস্থান তুলে ধরে তিনি ইসরায়েলের ভোটারদের উদ্দেশে নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন জানান।
ইসরায়েলের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এটিই দেশটির প্রথম জাতীয় নির্বাচন। এরপর গাজা যুদ্ধ এবং ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাত ইসরায়েলের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে। ফলে নিরাপত্তা, যুদ্ধনীতি ও ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক সম্পর্ক নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত। তবে ২০২৬ সালে ইরানের একটি গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলের হামলা এবং গাজা নিয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের মতো বিষয়গুলোতে দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
নেতানিয়াহুর সামনে নির্বাচনী চ্যালেঞ্জও রয়েছে। দুর্নীতিসংক্রান্ত মামলাসহ নানা রাজনৈতিক বিতর্কে তিনি চাপের মুখে আছেন। ইসরায়েলের সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকার গঠনের জন্য দলগুলোর জোট ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাব গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে ছোট দলগুলোর অবস্থানও ভূমিকা রাখতে পারে।
ট্রাম্পের সমর্থন নেতানিয়াহুর নির্বাচনী অবস্থানে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। ভোটের ফলাফল এবং পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়াই নির্ধারণ করবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
সূত্র: রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।