বিশ্ব

আসামে বনাঞ্চল থেকে ১১০০ বাংলাভাষী মুসলিম পরিবার উচ্ছেদ

ভারতের আসাম রাজ্যে বনাঞ্চলীয় জমি থেকে দুই দিনের উচ্ছেদ অভিযানে এক হাজার ১১০০টির বেশি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে মুসলিম মিরর। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর অধিকাংশই বাংলাভাষী মুসলিম। অভিযানের সময় অন্তত ১০টি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামের নগাঁও, হোজাই ও গোলাঘাট জেলায় বনাঞ্চলীয় জমি দখলমুক্ত করার অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার নগাঁও জেলার লুতুমারী লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অভিযান চালানো হয়। এ সময় প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এর আগের দিন নগাঁও জেলায় ৩৩৬টি, হোজাই জেলায় ১৫২টি এবং গোলাঘাট জেলায় ৫৯টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। এই তিন জেলায় মোট উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সংখ্যা ৫৪৭।

দুই দিনের অভিযানে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সুনির্দিষ্ট মোট সংখ্যা নিয়ে প্রতিবেদনে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। তবে সেখানে দাবি করা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অধিকাংশই বাংলাভাষী মুসলিম।

উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দা আব্দুল নূরের দাবি, তাঁদের পূর্বপুরুষেরা ঔপনিবেশিক আমলে প্রচলিত ‘তাউঙ্গিয়া’ ব্যবস্থার আওতায় বন বিভাগের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। সেই সূত্রে তাঁদের পরিবারকে সংশ্লিষ্ট জমিতে পুনর্বাসিত করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উচ্ছেদের বিরুদ্ধে গুয়াহাটি হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন সংশ্লিষ্ট বাসিন্দারা। তবে আদালত সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষার স্বার্থে তাঁদের ৩০ দিনের মধ্যে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে দাবি করা হয়েছে।

আসাম সরকারের দাবি, সরকারি ও বনাঞ্চলীয় জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, আসামে বিজেপি সরকারের এক দশকের শাসনামলে সরকারি জমি থেকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব পরিবারের অধিকাংশই মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, ক্ষতিগ্রস্তদের বর্তমান অবস্থা এবং মসজিদ ভাঙার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

সূত্র: মুসলিম মিরর

📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের ইনস্টাগ্রাম ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর
❮
Follow Us
Facebook Page Facebook Group WhatsApp Channel
✖
আমাদের সাথে Facebook-এ থাকুন
Facebook Page লোড হচ্ছে...