জটিল কাজ দ্রুত ও সহজে করার জন্য নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল ‘জেমিনি ৪ আর্গন’ চালু করেছে গুগল। সফটওয়্যার তৈরি, অর্থায়ন, আইনি সেবা, সাইবার নিরাপত্তা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার মতো কাজে মডেলটি ব্যবহার করা যাবে।
সফটওয়্যার নির্মাতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী গ্রাহকেরা এটি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই নিউজ জানায়, গুগলের জেমিনি এপিআই, এআই স্টুডিও ও অ্যান্টিগ্র্যাভিটির মাধ্যমে মডেলটি ব্যবহার করা যাবে। তবে এ জন্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। গুগলের এআই আল্ট্রা ও প্রো গ্রাহকেরা জেমিনি অ্যাপ এবং গুগল সার্চের এআই মোডের মাধ্যমেও এটি ব্যবহার করতে পারবেন।
গুগলের ব্লগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০ লাখ ইনপুট টোকেন ব্যবহারে খরচ হবে ২ ডলার। আর প্রতি ১০ লাখ আউটপুট টোকেনের জন্য দিতে হবে ১০ ডলার। আগে থেকে সংরক্ষিত ইনপুট টোকেন ব্যবহারে ৯৫ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে।
গুগল জানিয়েছে, বিভিন্ন পেশা ও অর্থনৈতিক খাতে এআই মডেলের কাজের দক্ষতা যাচাইয়ের সূচক ‘ভ্যালস ইনডেক্স’-এ প্রথম স্থান অর্জন করেছে আর্গন।
এই সূচকে অর্থায়ন, কোড লেখা, আইনি সেবা ও করসংক্রান্ত কাজের দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়।
গুগলের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক ধাপে করতে হয়, এমন জটিল কাজের জন্য মডেলটি তৈরি করা হয়েছে। এটি কোনো বিষয়ে যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন ডিজিটাল সরঞ্জাম ব্যবহার করে কাজও করতে পারে।
গুগল আরো জানিয়েছে, তাদের অ্যান্টিগ্র্যাভিটি প্ল্যাটফর্মে আর্গন ব্যবহার করে প্রকৌশলীরা কোড জমা দেওয়ার হার ৩৫ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছেন।
এ ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন ধাপের কাজ করতে পারে, এমন এআই এজেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোডে করা পরিবর্তন আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার হার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে।
মডেলটি ক্রোম ব্রাউজারের দলকেও বড় একটি কাজ দ্রুত শেষ করতে সাহায্য করেছে। কয়েক শ ফাইলের সফটওয়্যার কাঠামো নতুন করে সাজানোর কাজটি কয়েক সপ্তাহে শেষ করা সম্ভব হয়েছে। গুগলের ভাষ্য, সাধারণত এ ধরনের কাজে কয়েক মাস সময় লাগত।
গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আর্গনের কোড লেখা ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহারের দক্ষতার কথা তুলে ধরেছেন। পিচাই বলেন, কোড লেখা এবং একাধিক ধাপে বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মডেলটি বেশ দক্ষ।
তিনি আরো জানান, পিক্সেল কম্পিউটারের একটি নকশা ফাইল ব্যবহার করে আর্গন বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আলাদা করে দেখানোর একটি অ্যানিমেশন তৈরি করেছে। এতে আলো, ক্যামেরার নড়াচড়া ও শব্দও যুক্ত করা হয়েছে। দৃশ্যগুলো পরীক্ষা করা এবং কোডের মান উন্নত করতে মডেলটি এক হাজারবার ধাপে ধাপে কাজ করেছে।
বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও মডেলটি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে গুগল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, নতুন ধরনের এনজাইমের নকশা তৈরিতে গবেষকদের সহায়তা করেছে আর্গন। পরে পরীক্ষাগারে দেখা গেছে, এসব এনজাইম রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটাতে সক্ষম।
এ ছাড়া সরকারি ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটার ব্যবস্থায় নিরাপত্তার দুর্বলতা খুঁজে বের করা ও তা ঠিক করতেও মডেলটি ব্যবহার করেছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। মডেলটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি সুরক্ষাব্যবস্থা যুক্ত করেছে গুগল। ক্ষতিকর অনুরোধ এবং ওয়েবপেজ, ইমেইল ও কোডের মধ্যে লুকিয়ে রাখা নির্দেশনা থেকে মডেলটিকে সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে।
গুগলের দাবি, একটি নির্দিষ্ট পরীক্ষায় লুকানো নির্দেশনা দিয়ে মডেলটিকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা মাত্র ০ দশমিক ৭ শতাংশ ক্ষেত্রে সফল হয়েছে। এ পরীক্ষায় নতুন কৌশল ব্যবহার করে ১৫ বার হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল।
গুগল জানিয়েছে, ধীরে ধীরে আরো বেশি ব্যবহারকারীর জন্য আর্গন ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো হবে। এ ছাড়া ১০ হাজার বিজ্ঞানীকে অ্যান্টিগ্র্যাভিটির সর্বোচ্চ সুবিধাযুক্ত স্তরটি ছয় মাস বিনা মূল্যে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে এ সুবিধা পেতে নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও নির্বাচনের শর্ত পূরণ করতে হবে। আসনসংখ্যাও সীমিত থাকবে।
গুগলের ভাষ্য, জেমিনি ৪ আর্গন হলো তাদের নতুন জেমিনি ৪ মডেল পরিবারের প্রথম মডেল। ভবিষ্যতে এ পরিবারের আরো মডেল আনার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।