দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন অঞ্চলে অবৈধ খনন, মাদক পাচার ও বন উজাড়ের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আদিবাসী নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, সংগঠিত অপরাধী চক্রের তৎপরতায় বনভূমি ধ্বংসের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেরু, ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও ইকুয়েডরের প্রতিনিধিরা ১৯ থেকে ২৩ অক্টোবর অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের আন্তদেশীয় সংগঠিত অপরাধবিষয়ক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেখানে পরিবেশবিধ্বংসী অপরাধ মোকাবিলায় একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির পক্ষে তাঁরা দাবি জানাবেন।
আদিবাসী নেতাদের বক্তব্য, অবৈধ খনন, বন উজাড় ও মাদক পাচার শুধু পরিবেশের ক্ষতি করছে না; এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত অপরাধী গোষ্ঠী স্থানীয় মানুষের ওপর সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রয়োগ করছে। নদীতে দূষণ ছড়ানো এবং বনভূমি দখলের কারণে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনযাপনও কঠিন হয়ে উঠছে।
তাঁরা আদিবাসীদের ভূমির অধিকার সুরক্ষিত করা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিজস্ব নিরাপত্তা উদ্যোগকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, শুধু সামরিক অভিযান দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; অবৈধ কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন এবং অপরাধী নেটওয়ার্কের আর্থিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে লাতিন আমেরিকায় শতাধিক পরিবেশকর্মী নিহত হয়েছেন বলে আদিবাসী নেতারা উল্লেখ করেছেন। বন ও ভূমি রক্ষায় কাজ করা ব্যক্তিদের ওপর হামলা তাঁদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ।
জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করে কিছু পর্যবেক্ষণমূলক উদ্যোগ শুরু করেছে। তবে প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক চুক্তি প্রণয়নে আদিবাসী প্রতিনিধিদের আনুষ্ঠানিক ভূমিকা কী হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
আমাজন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল। এই অঞ্চলের বন ধ্বংস হলে জীববৈচিত্র্য, নদী ও জলবায়ুর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। তাই অবৈধ খনন ও সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন আদিবাসী নেতারা।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।