দিনাজপুর

বিরামপুরে আগুনে পুড়ে ছাই ১০ বছরের স্বপ্ন

দিনাজপুর প্রতিবেদকঃ এক রাত আগেও যেখানে ছিল মানুষের আনাগোনা, খাবারের ব্যস্ততা আর জীবিকার স্বপ্ন, সেখানে এখন পোড়া ছাই আর ধ্বংসস্তূপ। আগুনের লেলিহান শিখায় মুহূর্তেই পুড়ে গেছে দীর্ঘ ১০ বছরের পরিশ্রমে গড়ে তোলা একটি বাবুর্চি হোটেল। আগুনের গ্রাস থেকে রক্ষা পায়নি পাশের একটি পানের দোকানও। চোখের সামনে জীবিকার একমাত্র অবলম্বন পুড়ে যেতে দেখে এখন দিশাহারা দুই ব্যবসায়ী। তাঁদের চোখেমুখে অনিশ্চয়তা—কীভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াবেন, কীভাবে চলবে সংসার?

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার জোতবাণী ইউনিয়নের কেটারাহাট এলাকায় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গভীর রাতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে বাবুর্চি হোটেল ও পাশের পানের দোকানের মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা ও ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি অনুযায়ী, দুই দোকান মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ পাঁচ লক্ষাধিক টাকা হতে পারে।

হোটেলটির মালিক শহিদুল ইসলাম। তিনি জোতবাণী ইউনিয়নের চাকুল গ্রামের আব্দুর জব্বারের ছেলে। প্রায় ১০ বছর ধরে পরিশ্রম করে গড়ে তুলেছিলেন তাঁর এই ব্যবসা। কেটরাহাটে প্রতি বৃহস্পতিবার ও রবিবার সাপ্তাহিক বড় হাট বসে। হাটের দিন দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষসহ স্থানীয় অনেকেই তাঁর হোটেলে খাওয়াদাওয়া করতেন। গরুর মাংস, হাঁসের মাংসসহ নানা ধরনের খাবার, মিষ্টি ও দই পাওয়া যেত সেখানে। প্রতিটি হাটবারে প্রায় অর্ধলক্ষ টাকার বেচাকেনা হতো বলে জানান স্থানীয়রা।

যে হোটেল থেকে প্রতিদিন চলত সংসারের চাকা, সেই হোটেলই এখন নিঃস্ব প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ এক দশকের শ্রম, সঞ্চয় আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন—সবকিছু যেন এক রাতেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শহিদুল ইসলামের হোটেলের পাশেই ছিল গোপাল চন্দ্র মহন্তের পানের দোকান। তিনিও জোতবাণী ইউনিয়নের চাকুল গ্রামের পাথোহাট এলাকার কালা চাঁন মহন্তের ছেলে। আগুনের তাপে ও শিখায় তাঁর দোকানের পান-সুপারি, বিস্কুট, অন্যান্য বিক্রয়সামগ্রী ও আসবাবপত্র পুড়ে যায়। এতে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। একটি দোকান ছিল খাবারের ভরসা, অন্যটি ছিল ছোট্ট ব্যবসায়ীর উপার্জনের অবলম্বন।

স্থানীয়রা জানান, খবর পেয়ে বিরামপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। জোতবানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল বলেন, আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে দুই পরিবারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মালামালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠে তাঁদের নতুন করে ব্যবসা শুরু করা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হলে পরিবার দুটি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের ইনস্টাগ্রাম ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর
❮
Follow Us
Facebook Page Facebook Group WhatsApp Channel
✖
আমাদের সাথে Facebook-এ থাকুন
Facebook Page লোড হচ্ছে...