স্পেনে ভয়াবহ উচ্চগতির ট্রেন দুর্ঘটনায় ৬৯ জন নিহত হওয়ার ছয় দিন পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে। মঙ্গলবার দেশটির আইনপ্রণেতাদের সামনে দীর্ঘ সময় ধরে দুর্ঘটনা নিয়ে জবাব দেওয়ার পর তিনি দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান। এক বছরের মধ্যে দুটি ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পর রেল নিরাপত্তা ও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই এ ঘোষণা এলো।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ৪ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ অক্টোবর মাদ্রিদের দক্ষিণে একটি উচ্চগতির ট্রেন দুর্ঘটনায় ৬৯ জনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় একটি চলন্ত ট্রেন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। স্পেনের রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফের একটি ট্রেন এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইরিও পরিচালিত ট্রেনের মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটে।
আইনপ্রণেতাদের সামনে বক্তব্য দিতে গিয়ে পুয়েন্তে বলেন, এক বছরেরও কম সময়ে একই দেশে এ ধরনের দুটি গুরুতর দুর্ঘটনার পর একজন পরিবহনমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা উচিত নয়। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তবে তা প্রকাশ করেননি।
প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার পেছনে রেল যোগাযোগ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ত্রুটির বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদ্রিদ-সেভিয়া রেলপথে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে। এর পর মাদ্রিদের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে রেনফের ট্রেনটিকে সামনে এগোনোর অনুমতি দেওয়া হয়, যদিও একই লাইনে ইরিওর একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল।
কীভাবে যোগাযোগব্যবস্থা বিকল হলো, নিয়ন্ত্রণকক্ষের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল এবং দুর্ঘটনা এড়ানোর সুযোগ ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশিত হয়নি।
চলতি বছরের জানুয়ারিতেও মাদ্রিদ-সেভিয়া রেলপথে আরেকটি বড় দুর্ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে ৪৬ জন নিহত হন। জানুয়ারির দুর্ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে।
পরপর দুটি বড় দুর্ঘটনায় স্পেনের উচ্চগতির রেলব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। চীনের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক স্পেনে রয়েছে। কয়েক দশক ধরে দেশটির দ্রুতগতির রেলব্যবস্থাকে অবকাঠামোগত সাফল্যের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে চলতি বছরের দুর্ঘটনাগুলো সেই ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও পরিচালনাগত সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার আগে পুয়েন্তে রেল নিরাপত্তা উন্নয়নে কয়েকটি পদক্ষেপের কথা জানান। এর মধ্যে নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রগুলোর কাজের পরিবেশ উন্নত করা এবং ইউরোপজুড়ে ব্যবহৃত অভিন্ন রেল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সংকেতপ্রযুক্তি দ্রুত চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইউরোপীয় রেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ইআরটিএমএস) বিভিন্ন দেশের রেল চলাচলের নিরাপত্তা ও সংকেতব্যবস্থাকে সমন্বিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
স্পেনের রেল নেটওয়ার্কে দুর্ঘটনার তদন্ত শেষ হলে যোগাযোগব্যবস্থার ব্যর্থতা, নিয়ন্ত্রণকক্ষের সিদ্ধান্ত এবং রেল পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যেতে পারে। তবে তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে দুর্ঘটনার জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হয়নি।
পরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন সামনে। রেল নিরাপত্তা, সরকারি অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা এবং দুর্ঘটনায় দায় নির্ধারণ রাজনৈতিক বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: এপি
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।