যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো হামলা হলে তার জবাব দিতে ‘সর্বোচ্চ প্রতিরোধ’ পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে নিজেদের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
৪ নভেম্বর আলজাজিরার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে তেহরান এ অবস্থান জানিয়েছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা এবং দুই দেশের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্যে প্রতিরোধের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে ইরান তার জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবে। তবে পরিকল্পনার বিস্তারিত সামরিক দিক প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কাতারসহ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয়। আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত এড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও দুই পক্ষের অবস্থানে উল্লেখযোগ্য দূরত্ব রয়েছে। ইরান বলছে, তাদের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্বার্থকে গুরুত্ব না দিলে কোনো সমঝোতা টেকসই হবে না।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩ নভেম্বর ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরানে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন হামলার কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। তবে একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক হামলার খবর প্রকাশিত হওয়ায় ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
আলজাজিরার আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া প্রস্তাবের জবাবকে ‘বিশ্বাসযোগ্য নয়’ বলে উল্লেখ করেছে। এ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল ও গ্যাস সরবরাহের বড় অংশ এ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সামরিক চাপের পরিবর্তে রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
তেহরানে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী প্রচারও জোরদার হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী ব্যানার এবং পোস্টার দেখা গেছে। এসব প্রচারে ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন এবং বিদেশি সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের বার্তা দেওয়া হয়েছে।
তবে ইরানের ‘সর্বোচ্চ প্রতিরোধ’ পরিকল্পনার আওতায় ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও নতুন কোনো সামরিক অভিযানের নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।
সূত্র: রয়টার্স।
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।