জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের নিরস্ত্রীকরণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রথম কমিটিতে পাকিস্তানের উত্থাপিত তিনটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণবিষয়ক একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৮০টি দেশ। বিপক্ষে ভোট দিয়েছে ভারত ও ইসরায়েল। বুধবার, ৪ নভেম্বর প্রকাশিত আরব নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবগুলোতে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক পর্যায়ে আস্থা তৈরির উদ্যোগ এবং পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং সংঘাতের আশঙ্কা বাড়তে থাকায় এসব বিষয় আন্তর্জাতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রথম প্রস্তাবটি আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে। এতে সামরিক ভারসাম্যহীনতা কমানো এবং সংঘাতের ঝুঁকি হ্রাসে আঞ্চলিক সমঝোতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছে, সামরিক সক্ষমতায় এগিয়ে থাকা দেশগুলোর আঞ্চলিক নিরাপত্তা চুক্তি ও সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। এ প্রস্তাবের পক্ষে ১৮০টি দেশ ভোট দেয়। ভারত ও ইসরায়েল বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
পাকিস্তানের দ্বিতীয় প্রস্তাবটি ছিল আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে আস্থা তৈরির ব্যবস্থা নিয়ে। এ প্রস্তাবটি ভোটাভুটি ছাড়াই গৃহীত হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ, সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরি করা, যাতে ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা থেকে বড় ধরনের সংঘাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।
তৃতীয় প্রস্তাবটির বিষয় ছিল পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার বা ব্যবহারের হুমকি না দেওয়ার বিষয়ে কার্যকর আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠা। এ প্রস্তাবের পক্ষে ১২২টি দেশ ভোট দেয়; বিপক্ষে কোনো দেশ ভোট দেয়নি। প্রস্তাবটির মূল উদ্দেশ্য হলো পারমাণবিক অস্ত্র নেই—এমন দেশগুলোকে পারমাণবিক হুমকি থেকে সুরক্ষার বিষয়ে আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা জোরদার করা।
পাকিস্তানের জাতিসংঘ মিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, ফলাফলগুলো পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং আঞ্চলিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আস্থা তৈরির উদ্যোগে দেশটির দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন তুলে ধরেছে। পাকিস্তানের দাবি, তারা কয়েক দশক ধরে জাতিসংঘে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, আস্থা তৈরির ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে উদ্যোগ চালিয়ে আসছে।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে এ ভোটের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ভারত ও পাকিস্তান—দুই দেশই পারমাণবিক অস্ত্রধারী এবং অতীতে একাধিকবার সামরিক সংঘাতে জড়িয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা ও নিরাপত্তা নিয়ে বিরোধের কারণে আঞ্চলিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং আস্থা তৈরির উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের উত্থাপিত প্রস্তাবে সামরিক সক্ষমতার পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।
তবে প্রথম কমিটিতে প্রস্তাব পাস হওয়া মানেই তাৎক্ষণিকভাবে বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক আইন তৈরি হওয়া নয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিকাংশ প্রস্তাব আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। এগুলো আন্তর্জাতিক নীতি ও অবস্থান নির্ধারণে প্রভাব ফেলে এবং ভবিষ্যতে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। প্রথম কমিটি নিরস্ত্রীকরণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ে খসড়া প্রস্তাব বিবেচনা করে; পরে সেগুলো সাধারণ পরিষদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনার কারণে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পাকিস্তানের জাতিসংঘ মিশন বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব প্রস্তাব ঝুঁকি কমানো, আস্থা তৈরি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতামূলক পথ দেখাতে পারে।
Arab News
সূত্র: আরব নিউজ
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।