বিশ্ব

কৃষ্ণসাগরে ড্রোন হামলার শিকার জাহাজে মিলল মানুষের দেহাবশেষ, নিহত ছয়জনের আশঙ্কা

কৃষ্ণসাগরে ড্রোন হামলার শিকার একটি বাণিজ্যিক জাহাজে মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে রোমানিয়ার উপকূলের কাছে হামলার শিকার হওয়ার পর জাহাজটি মেরামতের জন্য বুলগেরিয়ায় নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ধ্বংসাবশেষ সরানোর সময় দেহাবশেষগুলো পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ছয়জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হলেও প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে বুলগেরিয়ার তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ।

রোববার, ৮ নভেম্বর প্রকাশিত এনডিটিভির প্রতিবেদনে এএফপির বরাতে বলা হয়েছে, বুলগেরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর ভারনার প্রসিকিউটর কার্যালয় শনিবার এক বিবৃতিতে দেহাবশেষ উদ্ধারের তথ্য জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাজের ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কারের কাজ চলার সময় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। সেগুলোর অবস্থা এতটাই খারাপ যে শুধু দেখে মৃত ব্যক্তির সংখ্যা কিংবা পরিচয় নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

এ কারণে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ জাহাজটির নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও জানিয়েছে, এটি সান মারিনোর পতাকাবাহী একটি জাহাজ। এ তথ্যের সঙ্গে ১৫ অক্টোবর ড্রোন হামলার শিকার হওয়া ‘ওয়াইন ট্রেডার’ নামের একটি রাসায়নিকবাহী ট্যাংকারের মিল রয়েছে।

ওয়াইন ট্রেডার ট্যাংকারটি গত ১৫ অক্টোবর রোমানিয়ার উপকূল থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, দানিউব নদীর মোহনার কাছে ড্রোন হামলার শিকার হয়েছিল। হামলার পর জাহাজটির ১২ জন নাবিকের মধ্যে সাতজন নিখোঁজ হন। বাকি পাঁচজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বাইরে নিখোঁজ নাবিকদের পরিণতি নিয়ে এতদিন অনিশ্চয়তা ছিল।

বুলগেরিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে সম্ভবত ছয়জনের মরদেহ রয়েছে। তবে দেহাবশেষের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় নিশ্চিতভাবে সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ডিএনএ পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য জানা যাবে।

কৃষ্ণসাগরে সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ড্রোন হামলার ঘটনা বেড়েছে। এএফপির তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শুরু থেকে রোমানিয়া ও বুলগেরিয়ার উপকূলীয় জলসীমার কাছে অন্তত নয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় মোট ৩৪ জন নাবিক নিহত অথবা নিখোঁজ হয়েছেন।

কৃষ্ণসাগর ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌবাণিজ্যিক যোগাযোগের পথ। এ অঞ্চলে ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে রেখেছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলা, সমুদ্রপথে মাইন এবং সামরিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

রোমানিয়া ও বুলগেরিয়া উভয় দেশই ন্যাটোর সদস্য। কৃষ্ণসাগরের এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা হওয়ায় তাদের উপকূলীয় নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে ওয়াইন ট্রেডার জাহাজে হামলার জন্য কে দায়ী, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের দায় স্বীকারের তথ্যও পাওয়া যায়নি।

জাহাজটিতে পাওয়া দেহাবশেষের পরিচয় শনাক্ত করা গেলে নিখোঁজ নাবিকদের পরিণতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে হামলার ধরন ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তদন্তের জন্যও তা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সূত্র: এএফপি

📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের ইনস্টাগ্রাম ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর
❮
Follow Us
Facebook Page Facebook Group WhatsApp Channel
✖
আমাদের সাথে Facebook-এ থাকুন
Facebook Page লোড হচ্ছে...