ইয়েমেনের রাজধানী সানার পূর্বাঞ্চলের একটি এলাকায় সৌদি আরবের বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত এবং ৩৯ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। শনিবার চালানো এই হামলায় আবাসিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু বলে জানিয়েছে হুতি কর্তৃপক্ষ। হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে হতাহতের এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
রোববার, ৮ নভেম্বর প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সানার পূর্বদিকে বানি হুশাইশ এলাকায় হামলাটি চালানো হয়। হুতিদের পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। হামলায় একাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
হুতিদের পরিচালিত সংবাদ সংস্থা সাবা জানিয়েছে, হামলায় আবাসিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি। তবে কোন কোন বাড়িতে হামলা হয়েছে এবং সেগুলোর বাসিন্দাদের সংখ্যা কত ছিল, তা বিস্তারিতভাবে জানানো হয়নি।
হামলার পর উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। একটি হাসপাতালের পরিচালক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে সাধারণ বাসিন্দাদের পাশাপাশি উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া কয়েকজনও আটকে থাকতে পারেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দেশটির সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশন জানিয়েছে, তারা এ ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করছে। সৌদি বিমান হামলার দাবি এবং হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি সমর্থিত বাহিনীর মধ্যে সংঘাত নতুন নয়। ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সংঘাতে দেশটির অবকাঠামো, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সংঘাতের মাত্রা কিছুটা কমেছিল। কিন্তু গত জুলাইয়ে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে আবারও লড়াই শুরু হয়। এর ফলে আগের যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতি ভেঙে পড়ে এবং নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়।
হুতিরা সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব ইয়েমেনের মিত্র বাহিনীকে সহায়তা করতে বিমান হামলা চালাচ্ছে। নতুন করে সংঘাত বাড়ায় ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে ইয়েমেনে দুই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সংঘাতের কারণে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপদ পানির সংকটের পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয় সংকটও বাড়ছে।
ইয়েমেনের সংঘাত এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, সৌদি আরব এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনের লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে। হুতিরা নিজেদের সামরিক অভিযানের পক্ষে আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে সৌদি আরব তাদের নিরাপত্তা ও মিত্রদের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে।
সানার কাছে সর্বশেষ বিমান হামলার ঘটনায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এবং হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া জরুরি। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় হামলার অভিযোগ সত্য হলে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হবে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।