ঘুমের সময় মুখ খোলা থাকা অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। বিশেষ করে সর্দি, অ্যালার্জি বা নাক বন্ধ থাকলে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার প্রবণতা বাড়ে। মাঝেমধ্যে এমন হলে সাধারণত উদ্বেগের কারণ নেই। তবে নিয়মিত মুখ খোলা রেখে ঘুমালে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ এবং দাঁত ও মাড়ির সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এ অভ্যাস কখনো কখনো নাকের বাধা কিংবা ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যারও ইঙ্গিত দেয়। তাই নিয়মিত এমন হলে এর কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।
নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া কেন ভালো?
নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার সময় বাতাসের ধুলাবালি ও কিছু ক্ষতিকর কণা ছেঁকে যায়। পাশাপাশি নাক বাতাসকে উষ্ণ ও আর্দ্র করতে সাহায্য করে। মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার কিছু সুবিধা কমে যায়। ফলে মুখ ও গলা শুষ্ক হয়ে পড়তে পারে।
সর্দি বা নাক বন্ধ থাকার কারণে সাময়িকভাবে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া স্বাভাবিক। তবে নিয়মিত এমন হলে অ্যালার্জি, নাকের ভেতরের বাধা কিংবা অন্য কোনো শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মুখ খোলা রেখে ঘুমালে কী কী সমস্যা হতে পারে?
১. মুখ ও গলা শুকিয়ে যাওয়া
সারা রাত মুখ দিয়ে বাতাস চলাচল করলে মুখ ও গলার আর্দ্রতা কমে যেতে পারে। ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠে গলা শুকনো লাগা, অস্বস্তি বা গলাব্যথা হতে পারে।
২. নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ
লালা মুখের ভেতর খাবারের অবশিষ্টাংশ পরিষ্কার করতে এবং ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। মুখ শুকিয়ে গেলে লালার পরিমাণ বা কার্যকারিতা কমে যেতে পারে, যা নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধের কারণ হতে পারে।
৩. দাঁত ও মাড়ির সমস্যা
লালা দাঁতের এনামেলকে সুরক্ষা দিতে এবং মুখের অম্লীয় পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। দীর্ঘদিন মুখ শুকিয়ে থাকলে দাঁতে ক্ষয়, মাড়ির প্রদাহ ও অন্যান্য মুখের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
৪. ঠোঁট ফাটা ও জিহ্বায় আস্তরণ
মুখের আর্দ্রতা কমে গেলে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে ফেটে যেতে পারে। জিহ্বায় সাদা বা অন্য রঙের আস্তরণও দেখা দিতে পারে, যদিও এর পেছনে অন্যান্য কারণ থাকতে পারে।
৫. নাক ডাকা ও ঘুমের ব্যাঘাত
মুখ খোলা রেখে ঘুমানোর সঙ্গে নাক ডাকার সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়াই সব ক্ষেত্রে নাক ডাকা বা ঘুমের সমস্যার একমাত্র কারণ নয়। নাক বন্ধ থাকা কিংবা শ্বাসনালি সংকুচিত হওয়ার মতো সমস্যাও এর পেছনে থাকতে পারে।
মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া কি স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণ?
কিছু ক্ষেত্রে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার সঙ্গে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার সম্পর্ক থাকতে পারে। এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে ঘুমের সময় শ্বাসনালি বারবার সংকুচিত বা বন্ধ হয়ে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি করে।
স্লিপ অ্যাপনিয়ার সম্ভাব্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- জোরে ও নিয়মিত নাক ডাকা।
- ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসা বা হাঁপাতে হাঁপাতে জেগে ওঠা।
- সকালে মাথাব্যথা বা মুখ শুকিয়ে থাকা।
- পর্যাপ্ত ঘুমের পরও দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব।
- মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা ও ক্লান্তি।
তবে শুধু মুখ খোলা রেখে ঘুমালেই স্লিপ অ্যাপনিয়া হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এসব লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে ঘুমের পরীক্ষা করে সমস্যাটি নির্ণয় করা হয়।
মুখ খোলা রেখে ঘুমানোর অভ্যাস কমাতে কী করবেন?
- নাক বন্ধ থাকার কারণ খুঁজুন: সর্দি বা অ্যালার্জির সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন: শরীরে পানির ঘাটতি যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
- মুখের যত্ন নিন: নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করুন এবং মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।
- নাক ডাকা ও ঘুমের লক্ষণ খেয়াল করুন: শ্বাস বন্ধ হয়ে আসা বা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম পেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- নিজে থেকে মুখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন না: মুখে টেপ লাগিয়ে ঘুমানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে নাক বন্ধ থাকলে বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার আশঙ্কা থাকলে।
মাঝেমধ্যে মুখ খোলা রেখে ঘুমানো সাধারণত বড় সমস্যা নয়। তবে প্রতিদিন এমন হলে, সকালে নিয়মিত মুখ শুকিয়ে থাকলে কিংবা জোরে নাক ডাকা ও শ্বাসকষ্টের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।