দীর্ঘ ১৮ মাসের অপেক্ষা, চোটের সঙ্গে লড়াই আর মাঠে ফেরার কঠিন সংগ্রাম—সবকিছুর পর অবশেষে টটেনহ্যাম হটস্পারের জার্সিতে নিজের সামর্থ্যের ঝলক দেখালেন জেমস ম্যাডিসন। তাঁর দুর্দান্ত গোলে শুরু হওয়া ম্যাচে কোভেন্ট্রি সিটিকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে চলতি মৌসুমের প্রথম জয় পেয়েছে টটেনহ্যাম।
বিবিসি স্পোর্টের প্রধান ফুটবল লেখক ফিল ম্যাকনাল্টির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবারের এই জয় টটেনহ্যামের জন্য স্বস্তির হলেও দলটির সাম্প্রতিক দুরবস্থা কাটিয়ে ওঠার পথ এখনো কঠিন। নতুন কোচ রবার্তো দে জারবি দলের আত্মবিশ্বাস ফেরাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে চাঙা করার চেষ্টা, একসঙ্গে নৈশভোজ এবং স্পেনের মারবেলায় সময় কাটানোর মতো উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত মাঠে ম্যাডিসনের প্রত্যাবর্তন দলকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দেখা দিয়েছে।
২৯ বছর বয়সী ম্যাডিসন প্রায় ১৮ মাস পর টটেনহ্যামের শুরুর একাদশে জায়গা পান। গত মৌসুমের প্রাক্-মৌসুম প্রস্তুতির সময় হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্টে (এসিএল) চোট পেয়ে তিনি দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে ছিলেন। চলতি মৌসুমের প্রথম সপ্তাহে ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে ম্যাচে কাঁধের হাড় ভেঙে যাওয়ায় তাঁর ফেরার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয়।
কোভেন্ট্রির বিপক্ষে ম্যাচের ১৪ মিনিটেই নিজের প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করে তোলেন তিনি। মোহাম্মদ কুদুসের পাস থেকে বল পেয়ে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে প্রথম স্পর্শেই ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠান ম্যাডিসন। তাঁর বাঁকানো শটটি কোভেন্ট্রির গোলরক্ষক কার্ল রাশওয়ার্থকে পরাস্ত করে।
গোলের পর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে কাল্পনিক ডার্ট ছোড়ার উদ্যাপন করেন ম্যাডিসন। এরপর টটেনহ্যামের জার্সির প্রতীকেও চুমু খান তিনি। উল্লেখ্য, কোভেন্ট্রি তাঁর সাবেক ক্লাব।
দীর্ঘদিন পর এমন প্রত্যাবর্তনে টটেনহ্যামের সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। মাঠের বড় পর্দায় তাঁর গোলের পুনঃপ্রদর্শনের সময়ও দর্শকেরা প্রশংসায় ফেটে পড়েন।
টটেনহ্যামের জন্য ম্যাডিসনের গুরুত্ব বোঝাতে বিবিসির প্রতিবেদনে দলটির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের ম্যাচে সর্বশেষ প্রিমিয়ার লিগে গোল করেছিলেন ম্যাডিসন। এরপর তাঁর সর্বশেষ গোল থেকে পরবর্তী সময়ের ৫৭টি লিগ ম্যাচের মধ্যে টটেনহ্যাম জিতেছিল মাত্র ১২টিতে। এই সময়ে দলটির গড় পয়েন্ট ছিল ম্যাচপ্রতি একেরও কম।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচের পর ম্যাডিসন আর শুরুর একাদশে খেলেননি। ওই ম্যাচের পর থেকে পরবর্তী ৪৯টি লিগ ম্যাচে টটেনহ্যাম জয় পেয়েছে মাত্র ১১টিতে; হেরেছে ২৩টিতে।
এ পরিসংখ্যানই বোঝায়, দলটির সৃজনশীলতা ও আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ম্যাডিসনের অনুপস্থিতি কতটা প্রভাব ফেলেছিল।
কোভেন্ট্রির বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয় টটেনহ্যামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও খেলায় তাদের আধিপত্য পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। প্রথম গোল হজমের পর কোভেন্ট্রি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে এবং জ্যাক রুডোনির গোলে সমতা ফেরায়।
পরে ওমর মারমুশের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে এগিয়ে যায় টটেনহ্যাম। এটি ছিল ক্লাবটির হয়ে মারমুশের প্রথম গোল। যোগ করা সময়ে কোভেন্ট্রির গোলরক্ষক রাশওয়ার্থের বড় ভুলের সুযোগ নিয়ে বেন ডেভিস আরেকটি গোল করেন। তাতেই ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয়।
ঘরের মাঠে সাম্প্রতিক সময়ের ফলাফলও টটেনহ্যামের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে। আগের ৩৭টি ঘরোয়া লিগ ম্যাচে দলটি জিতেছিল মাত্র ছয়টিতে; ড্র করেছিল ১০টি এবং হেরেছিল ২১টিতে। ২০২৬ সালে এ ম্যাচের আগে ২৭টি লিগ ম্যাচ খেলে তাদের জয় ছিল মাত্র চারটি; ড্র ১০টি এবং হার ১৩টি।
এ ছাড়া গত মৌসুমের প্রথম দিনে বার্নলিকে ৩-০ গোলে হারানোর পর এই প্রথম ঘরের মাঠে লিগ ম্যাচে তিন বা তার বেশি গোল করল টটেনহ্যাম।
ম্যাডিসনের প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি টটেনহ্যামের জন্য আরেকটি বড় স্বস্তির খবর ছিল দেজান কুলুসেভস্কির মাঠে ফেরা। হাঁটুর চোটের কারণে ৫২৬ দিন মাঠের বাইরে থাকার পর ৮৭ মিনিটে মোহাম্মদ কুদুসের বদলি হিসেবে খেলতে নামেন তিনি।
ম্যাচের ৬৯ মিনিটে কনর গ্যালাঘারের বদলি হিসেবে মাঠ ছাড়ার সময় ম্যাডিসন দর্শকদের কাছ থেকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন পান। তবে দীর্ঘ চোট কাটিয়ে কুলুসেভস্কির মাঠে ফেরার মুহূর্তেও সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
দে জারবি বলেন, ম্যাডিসন ও কুলুসেভস্কি দুজনই আলাদা ধরনের খেলোয়াড়। তাঁদের প্রতিভা ও ব্যক্তিত্বও ভিন্ন। দুজনকে ড্রেসিংরুমে ফিরে পাওয়ায় দলের পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
ম্যাডিসনের প্রত্যাবর্তন এবং কোভেন্ট্রির বিপক্ষে জয় টটেনহ্যামের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে। তবে কোচ দে জারবি জানেন, একটি জয় দিয়েই দলের সব সমস্যা দূর হবে না।
শনিবার সন্ধ্যায় স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে চেলসির মুখোমুখি হবে টটেনহ্যাম। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ম্যাচটি রাত ১০টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়ার কথা, যদি ঘোষিত ১৭:৩০ ব্রিটিশ সামার টাইম সূচি অপরিবর্তিত থাকে।
ম্যাডিসন ও কুলুসেভস্কির প্রত্যাবর্তন এবং মারমুশের প্রথম গোল থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে টটেনহ্যাম সামনের ম্যাচগুলোতে উন্নতির ধারায় ফিরতে পারে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।