বিশ্ব

দিল্লিতে রেস কোর্স মসজিদ উচ্ছেদের নোটিশ, বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেস কোর্স মসজিদ ছয় দিনের মধ্যে খালি করার নোটিশ জারি করেছে দেশটির ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এলঅ্যান্ডডিও)। জমিটিকে ‘অনুমোদনহীন’ দাবি করে এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মসজিদটির ঐতিহাসিক স্বীকৃতি, জমির মালিকানা এবং উচ্ছেদ প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের (এনডিএমসি) ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তির তালিকায় থাকা রেস কোর্স মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ গত ৭ অক্টোবর থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। জমিটি সরকারি দাবি করে এনডিএমসি মসজিদটির ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে স্থাপনাটি উচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মসজিদ ও এর পাশের কবরস্থান রক্ষায় হস্তক্ষেপ চেয়ে জমিয়াত উলামায়ে হিন্দের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিষাণ রেড্ডি রিজিজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সংগঠনটির প্রতিনিধি মোহাম্মদ হাকিমুদ্দিন কাসমি জানান, ১৯৭৭ সালের দিল্লি গেজেট এবং সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তালিকায় মসজিদটিকে ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে মন্ত্রীর সহযোগিতা চাওয়া হলে তিনি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান কাসমি।

মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হারুন দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ছয় মাস ধরে বিষয়টি জানানো হলেও বোর্ড এনডিএমসিকে চিঠি দেওয়া ছাড়া কার্যকর কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি আরও জানান, মসজিদে যাওয়ার পথ অবরুদ্ধ হয়ে আছে এবং পানীয় জলের ব্যবস্থাও বন্ধ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনসংলগ্ন রেস কোর্স রোড এলাকার উচ্ছেদ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মসজিদটি খালি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই দিনে দিল্লি হাইকোর্ট ওই এলাকার বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে সাবদা ঘেভরা পুনর্বাসন এলাকায় স্থানান্তরের অনুমতি দিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে মসজিদটির জমির মালিকানা, ঐতিহাসিক স্বীকৃতির আইনি ভিত্তি এবং উচ্ছেদ নোটিশের বিরুদ্ধে কোনো আদালতে আবেদন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের ইনস্টাগ্রাম ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর
❮
Follow Us
Facebook Page Facebook Group WhatsApp Channel
✖
আমাদের সাথে Facebook-এ থাকুন
Facebook Page লোড হচ্ছে...