মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়া ঠেকাতে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। রয়টার্সের ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কারণে জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিললেও সৌদি আরবে নতুন হামলার খবর আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বজায় রেখেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ০ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ দশমিক ১৫ ডলারে নেমেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও ০ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৩২ ডলারে দাঁড়ায়। তবে দাম কমার অর্থ এই নয় যে সংঘাতের ঝুঁকি শেষ হয়েছে।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা তেহরানে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। লক্ষ্য হলো যোগাযোগের পথ খোলা রাখা এবং নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার ঝুঁকি কমানো। চার দেশের আলোচনায় আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মতি এসেছে বলে আগের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে একই সময়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের হামলার খবর পরিস্থিতিকে জটিল করছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলার কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। হরমুজ প্রণালি এবং এর আশপাশের জলপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো বলে রয়টার্স উল্লেখ করেছে। ফলে ওই এলাকায় জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। তবে এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না।
কূটনৈতিক উদ্যোগের সামনে বড় বাধা হলো, সংঘাতের পক্ষগুলোর মধ্যে স্থায়ী সমঝোতার শর্ত নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা, নৌপথের নিরাপত্তা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সামরিক উত্তেজনা পুরোপুরি কমবে কি না, তা অনিশ্চিত।
রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, আলোচনার সম্ভাবনা বাজারে কিছুটা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করলেও সৌদি আরবে হামলার ঘটনা ঝুঁকির মাত্রা মনে করিয়ে দিয়েছে। আঞ্চলিক দেশগুলো আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে, কিন্তু কোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি হয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য নেই।
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।