সুদানে ক্রমবর্ধমান খাদ্যসংকটের কারণে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি মোকাবিলায় জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের কয়েকটি প্রধান শক্তি এবং আরও বহু দেশ। ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথে বাধা দূর করা, ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বেসামরিক অবকাঠামো সুরক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, সুদানের খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংঘাতকবলিত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য সীমান্তপথ ও দেশের অভ্যন্তরীণ চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দারফুর অঞ্চলে আকাশপথে সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ তৈরির আহ্বানও জানানো হয়েছে।
সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সংঘাত চলছে। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া, ফসলের ক্ষতি এবং খরার কারণে সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
জাতিসংঘ-সমর্থিত ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশনের জুন মাসের তথ্য অনুযায়ী, সুদানে ৫১ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে ছিলেন। যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মানবিক সংস্থাগুলোর জন্য সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। ত্রাণ পরিবহনে বাধা এবং কর্মীদের নিরাপত্তাহীনতা পরিস্থিতি মোকাবিলাকে আরও জটিল করছে। জাতিসংঘের একটি তদন্তে আরএসএফের বিরুদ্ধে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক অনাহারে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও আরএসএফের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছে এবং সুদানের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ করেছে। উভয় পক্ষই তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আন্তর্জাতিক দেশগুলোর সাম্প্রতিক আহ্বানের মূল লক্ষ্য হলো খাদ্য ও চিকিৎসাসহ জরুরি সহায়তা দ্রুত পৌঁছানো এবং বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষা করা। তবে এই আহ্বানের পর বাস্তবে কতটা সহায়তা পৌঁছাবে, তা নির্ভর করবে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর সহযোগিতা ও নিরাপদ মানবিক করিডর নিশ্চিত করার ওপর।
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।