রংপুর বিভাগ

রংপুর পীরগঞ্জে তিন হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ২

রংপুরের পীরগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তিনটি হিন্দু পরিবারের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের একজনকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে করা মামলায় এবং অন্যজনকে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক। তিনি জানান, গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

পুলিশ ও মামলাসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৬ অক্টোবর) উপজেলার চক করিম (তেলিপাড়া) এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তিনটি হিন্দু পরিবারের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দেয়।

হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে বিশু চন্দ্র মহন্ত বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। এতে আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় শফিকুল ইসলাম আরিফকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার গুজিপাড়া এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে।

অন্যদিকে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আমিনুল দফাদার নামের এক ব্যক্তি থানায় পৃথক মামলা করেন। এতে সৌরভ চন্দ্র মোহন্তকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর সোমবার রাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে ধর্ম অবমাননার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দীনেশ চন্দ্র মহন্ত জানান, সোমবার সন্ধ্যায় একদল লোক তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়ি থেকে তিনটি ছাগল ও ঘরের আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী এবং স্থানীয় বিএনপির নেতারা।

জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, “ধর্মের নামে কোনো ধরনের সহিংসতা, হামলা, ভাঙচুর কিংবা লুটপাট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ থাকলে তা আইন অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো অভিযোগের বিচার নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। একইভাবে, নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন।”

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, “ধর্ম অবমাননার অভিযোগের বিষয়টি যেমন গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে, তেমনি এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের ইনস্টাগ্রাম ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর
❮
Follow Us
Facebook Page Facebook Group WhatsApp Channel
✖
আমাদের সাথে Facebook-এ থাকুন
Facebook Page লোড হচ্ছে...