গাইবান্ধার দুর্গম চরাঞ্চল থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে যমুনা নদীতে নৌকার মধ্যেই এক কন্যাশিশুর জন্ম হয়েছে। নদীর বুকে জন্ম নেওয়া শিশুটির নাম তাৎক্ষণিকভাবে রাখা হয়েছে ‘নদী’। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ আছে।
গতকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের চরাঞ্চল থেকে সদর হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ঘাটে যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে ফুলছড়ির চরাঞ্চলে মাঠপর্যায়ের কাজ শেষে নৌকায় ফিরছিলেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণউন্নয়ন কেন্দ্রের কয়েকজন কর্মী। এ সময় প্রসববেদনায় অসুস্থ এক নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য স্বজনরা তাঁদের নৌকায় তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানান। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সংস্থার কর্মীরা দ্রুত ওই নারী ও তাঁর স্বজনদের নৌকায় তুলে নেন।
এর আগে দুর্গম চরাঞ্চল থেকে স্বজনরা প্রসূতিকে প্রথমে হেঁটে এবং পরে মাচায় করে নৌঘাটে নিয়ে আসেন। নৌকায় ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর প্রসববেদনা বেড়ে যায়। এ অবস্থায় নৌকায় থাকা নারীকর্মী ও স্বজনরা কাপড় দিয়ে চারপাশ আড়াল করে প্রসবের ব্যবস্থা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রসববেদনায় কাতর প্রসূতিকে নিয়ে মাঝি দ্রুত নৌকা চালিয়ে ঘাটের দিকে রওনা হন। প্রায় ৪০ মিনিটের নৌযাত্রার মধ্যেই কন্যাশিশুটির জন্ম হয়। নদীর বুকে নৌকায় নতুন অতিথির আগমনে যাত্রীদের মধ্যে উৎকণ্ঠার বদলে স্বস্তি ও আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। পরে যমুনার বুকে জন্ম নেওয়া শিশুটির নাম রাখা হয় ‘নদী’।
গণউন্নয়ন কেন্দ্রের কর্মকর্তা রোকনউদ দৌলা জানান, চরাঞ্চলে প্রসূতি সেবা ও সন্তান জন্মদানের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। অথচ গাইবান্ধার ১৫৮টি চরে লাখ লাখ মানুষের বসবাস। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে প্রায়ই প্রসূতি মা ও গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রেও দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে প্রসূতিকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই নৌকায় সন্তান জন্ম দিতে হয়েছে। সৌভাগ্যক্রমে গণউন্নয়ন কেন্দ্রের কর্মীদের সহায়তা পেয়েছেন তিনি। তাঁদের তাৎক্ষণিক সহযোগিতায় নৌকায় নিরাপদে শিশুটির জন্ম হয়। পরে নদী পেরিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পান মা ও নবজাতক। বর্তমানে দুজনই সুস্থ আছেন।
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।