এল নিনোর প্রভাবে আগামী কয়েক মাসে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যাঞ্চলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যেতে পারে। বুধবার, ২১ অক্টোবর, প্রকাশিত নতুন মৌসুমি পূর্বাভাসে এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে জানুয়ারি সময়কালে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি হতে পারে এবং ডিসেম্বর নাগাদ তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, অতীতের শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতিতেও তাপমাত্রা বৃদ্ধির মাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত দেখা গেছে। নতুন পূর্বাভাসে ৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির সম্ভাবনা পরিস্থিতির গুরুতর দিকটি তুলে ধরছে।
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনা। এ সময় নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু অংশের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। এর প্রভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরন পরিবর্তিত হতে পারে। কোনো অঞ্চলে খরা দেখা দিতে পারে, আবার অন্য অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ডব্লিউএমও জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে নভেম্বর থেকে বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উষ্ণ আবহাওয়া ও বৃষ্টির ঘাটতি কৃষিকাজ এবং পানির সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে লাতিন আমেরিকার কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার সতর্ক করে বলেছেন, এল নিনো-সংশ্লিষ্ট চরম আবহাওয়া বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, পরিস্থিতির কারণে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ খাদ্যসংকটের বাড়তি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
তবে ৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির পূর্বাভাসটি প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট অঞ্চলের তাপমাত্রা-সংক্রান্ত; এটি পুরো পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা একই পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার পূর্বাভাস নয়।
সূত্র: রয়টার্স
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।