ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাতে জানিয়েছে আল জাজিরা। নিহতদের মধ্যে গাজা সিটির ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন। ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হামলার পাশাপাশি গাজার আরও কয়েকটি স্থানেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকায় দুটি হামলার খবর পাওয়া যায়। এর আগে ড্রোন হামলায় সাতজন ছাত্রী ছিটকে আসা ধ্বংসাবশেষে আহত হন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর ছিল বলে ঘটনাস্থল থেকে জানানো হয়।
গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় গোলাবর্ষণে আরও দুজন নিহত হয়েছেন বলে নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্স জানিয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর পূর্বাঞ্চলে ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। গাজার উত্তরাঞ্চলে হামাদ হাসপাতালের কাছে আল-রশিদ সড়কেও হামলায় একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনের ওয়াফা সংবাদ সংস্থার বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হামলার পর ফিলিস্তিনের পপুলার রেজিস্ট্যান্স কমিটিজ মধ্যস্থতাকারী ও আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তাদানকারী পক্ষগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তাদের দাবি, হামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর গাজার উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ৯৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু ভবন আগেই ধ্বংস হয়েছিল বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৫৫১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ৫৭৩ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা যুদ্ধে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ৫৪৪ এবং আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৯২ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সংখ্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাব; স্বাধীনভাবে প্রতিটি ঘটনার যাচাই সব ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি।
যুদ্ধবিরতি চলার মধ্যেও হামলা, অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং খাদ্যসংকটের কারণে গাজার সাধারণ মানুষের জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে পণ্য প্রবেশ ও আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট আরও প্রকট হওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা।
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।