শীতের আগমনী বার্তায় লালমনিরহাটের বাজারে উঠতে শুরু করেছে আগাম জাতের বিভিন্ন সবজি। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে সবজির বাজারে। তবে চাল, ডাল, তেল, মাছ ও মাংসের দাম বাড়তি থাকায় সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার বাজারসহ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্থিরতা চলছে। গত মাসের তুলনায় বেশ কিছু খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে।
বাজারে চিকন চালের কেজি ৫৮ টাকা থেকে বেড়ে ৬৪ টাকা হয়েছে। চিকন মসুর ডাল ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪২ টাকা এবং সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৯৯ টাকা থেকে বেড়ে ২০৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম ডজনে ৬ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৫০ টাকা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভাষ্য, গত তিন মাসে চাল, তেল, ডিম ও মসুর ডালের দাম ৫ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
মাছ ও মাংসের বাজারেও রয়েছে দামের ঊর্ধ্বগতি। ছোট মাছের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও নাইলোটিকা, রুই, গ্রাসকার্প ও পাঙাশের দাম কেজিতে ১৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে সোনালি ও দেশি মুরগির দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। গরুর মাংস আগের মতোই কেজিপ্রতি ৭০০ থেকে ৭৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, সবজির বাজারে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে। আলু ও বেগুন কেজিপ্রতি ২০ টাকা, পেঁয়াজ ৪৫ টাকা এবং করলা ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে প্রতি পিস লাউয়ের দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা। তবে বাজারে আসা নতুন শীতকালীন সবজির মধ্যে ফুলকপি বা বাঁধাকপি কেজিপ্রতি ৮০ টাকা এবং নতুন শিম ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও স্বল্প আয়ের মানুষ। তাঁদের আয় সীমিত থাকলেও খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে সংসারের খরচ মেটাতে অনেকে মাছ-মাংস কেনা কমিয়ে দিচ্ছেন। এতে পরিবারের পুষ্টি, সন্তানদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপরও প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ক্রেতারা।
তুষভান্ডার কাঁচাবাজারের ক্রেতা রুপম ইসলাম বলেন, “সারাদিন কাজ করে ৫০০ টাকা আয় করি। সেখান থেকে প্রতিদিনের বাজার করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। তার ওপর ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া ও চিকিৎসার খরচ জোগানো অনেক কষ্টকর। সবজি ও চাল কিনেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে, মাছ-মাংস কেনার সামর্থ্য হচ্ছে না।”
একই বাজারের বিক্রেতা জহুরুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ বেড়েছে। উৎপাদন ও আমদানি কম থাকলে বেশি দামে পণ্য কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। নতুন সবজির চাহিদা বেশি থাকায় সেগুলোর দামও চড়া। তাঁর ভাষ্য, তাঁরা প্রতি কেজিতে মাত্র ৫ থেকে ১০ টাকা লাভে পণ্য বিক্রি করেন।
ক্রেতা পলাশ মিয়া বলেন, “কিছু সবজির দাম নাগালে থাকলেও অধিকাংশ পণ্যের দাম চড়া। মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ হয়েও অনেক ভেবেচিন্তে বাজার করতে হচ্ছে। যেভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে, তাতে আমরা হতাশ।”
আদিতমারীর বুড়ির বাজারের ক্রেতা বাবু মিয়া বলেন, নিজের উৎপাদিত সবজির দাম কম পেলেও বাজার থেকে কিনতে গেলে বেশি দাম দিতে হয়। পাইকারি থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত কোনো সিন্ডিকেট থাকা উচিত নয়। বাজারের ভারসাম্য বজায় রাখতে সরকারের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
কালীগঞ্জের শিয়ালখাওয়া বাজারের মুরগি বিক্রেতা জসিম উদ্দিন বলেন, ফিডের দাম বস্তাপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেড়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল ও ওষুধের খরচও বেড়েছে। এ কারণে অনেক খামারি মুরগি উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন। উৎপাদন কমে যাওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে মুরগি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে পরিবহন খরচ বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে বিক্রয়মূল্যে।
লালমনিরহাট কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ লিটন বলেন, জেলার বাজারগুলোতে দ্রব্যমূল্য অতিরিক্ত বেড়েছে। তাঁর মতে, আমদানির ঘাটতি ও তদারকির অভাব এর অন্যতম কারণ। তিনি পণ্যের ওপর কর ও ভ্যাট কমানোর পাশাপাশি নিয়মিত বাজার তদারকির দাবি জানান। তাঁর প্রস্তাব, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে দল মাঠে কাজ করলে বাজার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।