দিনাজপুর

কাহারোলে ধানের বাম্পার ফলন দাম পেয়ে কৃষকেরা খুশি

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় আগাম জাতের আমন ধান কাটা ও মাড়াই পুরোদমে চলছে। ফলন ভালো হওয়ায় এবং বাজারে ধানের সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় খুশি কৃষকেরা। ধান ঘরে তোলার পর একই জমিতে আগাম ভুট্টা, সরিষা, আলু ও শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তাঁরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর জমি প্রস্তুত করছেন কৃষকেরা। অনুকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব তুলনামূলক কম থাকায় এবার ভালো ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। আগাম ধান ঘরে তোলায় পরিবারের খাদ্যচাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভালো দামে ধান ও খড় বিক্রি করে লাভবান হওয়ার আশা করছেন কৃষকেরা।

উপজেলার বলরামপুর গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে আগাম জাতের আমন ধান চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় ১৮ থেকে ২০ মণ করে ফলন পেয়েছেন। ধান কাটার পর ওই জমিতে আগাম জাতের ভুট্টা চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

একই গ্রামের কৃষক ওমর আলী বলেন, দুই বিঘা জমিতে আগাম আমন ধান চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৫০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন তিনি।

কৃষকেরা জানান, আগাম ধান ঘরে তুলতে পারায় একদিকে পরিবারের খাদ্যচাহিদা পূরণ হচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে ভালো দামে ধান বিক্রি করা যাচ্ছে। ধানের পাশাপাশি খড় বিক্রি করেও বাড়তি আয় হচ্ছে। গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ধানের খড়ের চাহিদা থাকায় প্রতি বিঘা জমির খড় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে তাঁরা জানান।

আমন ধান কাটার পর একই জমিতে আগাম ভুট্টা, আলু, ফুলকপি ও অন্যান্য শীতকালীন ফসল চাষের প্রস্তুতি চলছে। এতে একই জমি থেকে বছরে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

কাহারোল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৫ হাজার ৩৪৯ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান বলেন, একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করতে কৃষকদের আগাম জাতের ধান চাষের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব জাতের ধান তুলনামূলক কম সময়ে ঘরে তোলা যায়। ফলে আমন কাটার পর আগাম আলু, ভুট্টা ও শীতকালীন বিভিন্ন ফসল চাষের পাশাপাশি বোরো ধান আবাদেরও সুযোগ থাকে।

তিনি জানান, এ বছর উপজেলায় ব্রি ধান-৭৫, ব্রি ধান-৮৭, ব্রি ধান-৪৯, বিনা ধান-১৭ ও বিনা ধান-৭সহ বিভিন্ন জাতের আগাম ধান চাষ করা হয়েছে। আগাম জাতের ধান প্রায় ১১০ দিনের মধ্যে ঘরে তোলা সম্ভব।

মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা জানান, ধানসহ অন্যান্য লাভজনক ফসল উৎপাদনে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভালো ফলন নিশ্চিত করতে রোগবালাই ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায়ও তাঁদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের ইনস্টাগ্রাম ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর
❮
Follow Us
Facebook Page Facebook Group WhatsApp Channel
✖
আমাদের সাথে Facebook-এ থাকুন
Facebook Page লোড হচ্ছে...