ভারতের অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ছাত্রসংসদ পুনর্বহালের দাবিকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেন। এর আগে তিনি সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (SRFTI) শিক্ষার্থীদের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার প্রকাশিত ভিডিওতে ৭৬ বছর বয়সী অভিনেতাকে ‘ডিমাগি নকশাল’ লেখা একটি ব্যাজ দেখাতে দেখা যায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর আগে সরকারের সমালোচকদের প্রসঙ্গে এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভিডিওতে নাসিরুদ্দিন শাহ বলেন, “আমি গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি, আমি ডিমাগি নকশাল।” এরপর তিনি বলেন, তাঁর মতো মানুষকে সরকারপক্ষের লোকেরা আর কী কী নামে ডাকেন—‘দেশবিরোধী’ বা ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’-এর মতো শব্দও ব্যবহার করা হয় কি না, তা তিনি জানেন না।
অভিনেতা ভিডিওতে আরও প্রশ্ন তোলেন, দেশের তরুণদের সাহস ভেঙে দেওয়া, শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করা এবং গণতন্ত্রকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলার জন্য সরকার আর কত দূর যাবে। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনের অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জামিয়ার আন্দোলন কেন?
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা এবং ছাত্রসংসদের সংবিধান অনুমোদনের সময়সীমা জানানো। ২০০৬ সালের পর থেকে সেখানে ছাত্রসংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, প্রায় দুই দশক পর ছাত্রসংসদ নির্বাচন আবার শুরু করা হবে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট সময়সূচি না পাওয়ায় আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর প্রায় ৭০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
নাসিরুদ্দিন শাহ তাঁর বক্তব্যে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, SRFTI এবং জামিয়ার শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করেন। তিনি কবি আমির আজিজের বহুল পরিচিত কবিতার একটি পঙ্ক্তিও উদ্ধৃত করেন—“সব মনে রাখা হবে।”
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।