বিনোদন

রাম হিসেবে রণবীর, রাবণ চরিত্রে যশের প্রশংসা

রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী ও যশ অভিনীত নীতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ: রাইজ অব আ লেজেন্ড’ ছবির প্রথম দর্শক-প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ছবিটির বিশেষ প্রদর্শনীর পর সামাজিক মাধ্যমে কয়েকজন দর্শক ও পর্যালোচক তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় ছবির বিশাল নির্মাণ, গল্প বলার ধরন এবং শেষের নাটকীয় মুহূর্ত নিয়ে যেমন প্রশংসা রয়েছে, তেমনই প্রত্যাশা পূরণ নিয়ে কিছু সংশয়ও দেখা গেছে।

প্রিমিয়ারে উপস্থিত ছিলেন ছবির প্রধান অভিনয়শিল্পী রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী ও যশ। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন পরিচালক নীতেশ তিওয়ারি এবং প্রযোজক নমিত মালহোত্রা। অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিওতে তারকাদের ভক্তদের সঙ্গে দেখা করতে, ছবি তুলতে এবং সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তর দিতে দেখা যায়। অনেক ভক্ত ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাক পরে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

প্রিমিয়ারে যশ বলেন, ‘রামায়ণ’কে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে তুলে ধরার সুযোগ তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর কথায়, কোথা থেকে যাত্রা শুরু হচ্ছে, তা দিয়ে একজন বা একটি শিল্পের ভবিষ্যৎ সাফল্যের সীমা নির্ধারিত হয় না। কন্নড় চলচ্চিত্রশিল্পের সদস্য হিসেবে এবং বৃহত্তর ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পের অংশ হয়ে এই গল্প বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে পেরে তিনি গর্বিত।

যশ আরও বলেন, ভারতীয় সংস্কৃতিতে ‘রামায়ণ’ কেবল বলা একটি গল্প নয়; এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্মরণ ও সংরক্ষণের ঐতিহ্য। হাজার বছর ধরে এই কাহিনি মানুষের কাছে পৌঁছে আসছে। ছবিটির মাধ্যমে ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সেই উত্তরাধিকার বিশ্বের দর্শকের সামনে তুলে ধরতে চান তাঁরা।

প্রদর্শনী শেষে এক পর্যালোচকের প্রতিক্রিয়া সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি দেখে তিনি জানান, তাঁর দেখা অন্য অনেক চলচ্চিত্রের সঙ্গে এর সহজে তুলনা করা যায় না। ছবিটির বিশালতা ও অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি ‘দ্য লর্ড অব দ্য রিংস’-এর প্রথম ছবি দেখার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন।

পর্যালোচকের মতে, তিনি এমন একটি গল্প দেখতে চেয়েছিলেন, যা শুধু বিনোদন দেবে না, বরং কিছু ভাবাবে এবং নতুন কিছু উপলব্ধি করাবে। ‘রামায়ণ’-এর সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তাঁর কাছে নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে বলেও জানান তিনি।

তবে এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্তিগত দর্শক-অভিজ্ঞতা; এটিকে ছবিটির সর্বজনীন মূল্যায়ন বা সমালোচকদের ঐকমত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় রাম চরিত্রে রণবীর কাপুরের অভিনয়ও আলোচনায় এসেছে। একজন পর্যালোচক চরিত্রটির উপস্থাপনা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে রণবীর ও সাই পল্লবীকে রাম ও সীতা হিসেবে দৃঢ় অভিনয় করেছেন বলে প্রশংসা করা হয়েছে।

তবে একই প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, কিছু দৃশ্যে চরিত্র দুটির প্রত্যাশিত ঐশ্বরিক আবহ এবং আবেগের গভীরতা পর্দায় পুরোপুরি ফুটে ওঠেনি। ফলে অভিনয়ের প্রশংসার পাশাপাশি চরিত্রগুলোর আবেগ দর্শকের কাছে কতটা পৌঁছেছে, তা নিয়ে মিশ্র মূল্যায়নও রয়েছে।

প্রাথমিক পর্যালোচনায় যশের রাবণ চরিত্র বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। একজন দর্শকের মতে, ছবিতে যশের প্রবেশদৃশ্যগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য এবং তাঁর অভিনয় ছবির বড় আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।

মহাকাব্যভিত্তিক ছবিতে রাবণের মতো পরিচিত চরিত্রকে কীভাবে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা দর্শকদের আগ্রহের অন্যতম বিষয়। তবে ছবির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য আরও বিস্তৃত দর্শক-প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা সামনে আসা প্রয়োজন।

প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় ছবির সমাপ্তি বা ক্লিফহ্যাঙ্গার নিয়েও আলোচনা হয়েছে। একজন পর্যালোচক জানিয়েছেন, শেষ দৃশ্যের পর্দা কালো হয়ে যাওয়ার মুহূর্তে তিনি এতটাই বিস্মিত হয়েছিলেন যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে চিৎকার করে ওঠেন। গল্পের পরবর্তী অংশ জানার আগ্রহ তৈরি করাই এই সমাপ্তির বড় প্রভাব বলে তাঁর প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবির দ্বিতীয় কিস্তি ২০২৭ সালের দীপাবলিতে মুক্তির জন্য নির্ধারিত বলে জানানো হয়েছে। তবে মুক্তির পরিকল্পনা ভবিষ্যতে পরিবর্তিত হতে পারে।

এক পর্যালোচক জানান, তিনি ইংরেজি ডাব করা সংস্করণের বদলে মূল হিন্দি সংস্করণ দেখেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইংরেজি সংস্করণটি প্রায় ৩০ মিনিট ছোট করে সম্পাদনা করা হয়েছিল বলে তিনি মূল সংস্করণ বেছে নেন। তাঁর দেখা হিন্দি সংস্করণটির দৈর্ঘ্য তিন ঘণ্টার বেশি।

এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য যে, সংস্করণভেদে দৈর্ঘ্য ও সম্পাদনার তথ্যটি ওই পর্যালোচকের বক্তব্যের ভিত্তিতে এসেছে; ছবিটির সব সংস্করণের চূড়ান্ত রানটাইম সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে এটি ধরে নেওয়া উচিত নয়।

প্রাথমিক প্রতিক্রিয়াগুলো পুরোপুরি একমুখী নয়। ছবির উচ্চাকাঙ্ক্ষা, নির্মাণের ব্যাপ্তি ও দৃশ্যগত বিশালতার প্রশংসা করা হলেও একজন পর্যালোচক ছবিটিকে মিশ্র অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, ছবিটি দেখার মতো হলেও এর মধ্যে আরও বেশি সম্ভাবনা ছিল, যা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি।

অতএব, ‘রামায়ণ’ নিয়ে এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রতিক্রিয়াকে চূড়ান্ত রায় বলা যাবে না। লস অ্যাঞ্জেলেসের বিশেষ প্রদর্শনীর পর প্রকাশিত কিছু প্রাথমিক মতামত ছবিটির সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছে; বৃহত্তর দর্শকসমাজের প্রতিক্রিয়া এবং পূর্ণাঙ্গ সমালোচনা সামনে এলে ছবিটির গ্রহণযোগ্যতা আরও স্পষ্ট হবে।

📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের ইনস্টাগ্রাম ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর
❮
Follow Us
Facebook Page Facebook Group WhatsApp Channel
✖
আমাদের সাথে Facebook-এ থাকুন
Facebook Page লোড হচ্ছে...