দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুর শহরের রাজবাড়ী সবজিবাগান এলাকায় মোঃ শাহীনুর আলম শাহীন (৫৬) নামের এক ব্যক্তির ওপর সশস্ত্র হামলা, বাড়িঘরে ভাঙচুর, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান মালামাল লুটপাট এবং পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিনাজপুর প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী মোঃ শাহীনুর আলম শাহীন। তিনি দিনাজপুর শহরের রাজবাড়ী সবজিবাগান এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
লিখিত বক্তব্যে শাহীনুর আলম জানান, গত ১ নভেম্বর (রোববার) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে রাজবাড়ী সবজিবাগান এলাকা থেকে বাস টার্মিনালের দিকে যাওয়ার পথে বাস আকরামের কাছাকাছি পৌঁছালে একদল ব্যক্তি পেছন থেকে তাঁর মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি মারধর করে। হামলায় তাঁর মাথা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, এলাকার ফাহিম ফায়সালের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি সামুরাই, হাসুয়া, লোহার রড, পাইপ ও বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর হামলা চালায়। তাঁর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
শাহীনুর আলমের অভিযোগ, তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সুযোগে হামলাকারীদের একটি দল তাঁদের বাড়িতে গিয়ে পুনরায় হামলা চালায়। এ সময় বাড়িতে থাকা নারী সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। বাড়ি ও জমির গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিবারের নারী সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে পরিবারের নারী, শিশু ও বৃদ্ধ সদস্যরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। হামলার বিভিন্ন ভিডিও, ছবি এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রয়োজনে এসব তথ্য-প্রমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে উপস্থাপন করা হবে।

শাহীনুর আলমের দাবি, দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের বাড়ির পেছনের বাড়ির বাসিন্দা আব্দুর রহমানের ছেলে জুয়েল হোসেন, নাড়িয়া ওরফে রফিকুল, মৃত ফরজন আলীর ছেলে আজিজার রহমান এবং মতিয়ার রহমানের ছেলে শামীমসহ কয়েকজনের ইন্ধন ও ষড়যন্ত্রে এ ঘটনা ঘটেছে।
তিনি জানান, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিষয়ে আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পরিবর্তে হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া ফাহিম ফায়সালের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন শাহীনুর আলম। তবে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে শাহীনুর আলম প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে চার দফা দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—হামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ফাহিম ফায়সালসহ অন্যদের এবং অভিযোগে উল্লেখিত সম্ভাব্য ইন্ধনদাতাদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা; তাঁর পরিবারের নারী, শিশু ও বৃদ্ধ সদস্যদের জানমাল ও বাড়িঘরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; লুট হওয়া স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান মালামাল উদ্ধার এবং গুরুত্বপূর্ণ জমির দলিলপত্রের বিষয়ে তদন্ত করা; পাশাপাশি ভিডিও, ছবি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
এ সময় দিনাজপুরের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যাতে পরিবারের সদস্যরা নিজ বাড়িতে নিরাপদে বসবাস করতে পারেন।
শাহীনুর আলম বলেন, তাঁরা কোনো প্রতিশোধ চান না; চান ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও পরিবারের নিরাপত্তা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ঘটনার বিষয়টি বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের অনুরোধ জানান।
এ সময় তার পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই মর্তুজা আলী বাদশা, তৃতীয় ভাই মোস্তফা মনির রবি, ভাতিজা নূরে আলম শাহ সহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন।
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।