ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে কোনো পক্ষই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় সরকার গঠনের জন্য এখন দলগুলোর মধ্যে জোট আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রোববার, ৮ নভেম্বর প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন। এর আগে ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোনো দল বা জোট প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে দেশটিতে নতুন সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
আইজেনকট ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক প্রধান। ২০২২ সালে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। এবারের নির্বাচনে তিনি নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হন। তাঁর রাজনৈতিক প্রচারণায় মধ্য-বামপন্থী থেকে ডানপন্থী বিভিন্ন দলের সমর্থন একত্র করার চেষ্টা দেখা গেছে।
ইসরায়েলের সংসদ নেসেটে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন কমপক্ষে ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন। নির্বাচনে কোনো পক্ষই সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারায় আইজেনকটকে এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার গঠনের জন্য আইজেনকটকে ২৮ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সংসদ সদস্যের সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারলে পরবর্তী রাজনৈতিক প্রক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
অন্যদিকে নেতানিয়াহু সরকার গঠনের সম্ভাবনা হারিয়ে ফেলেছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ এখনো নেই। তাঁর দল ও মিত্রদের সমর্থন রয়েছে। তবে বিরোধী দলগুলো একসঙ্গে অবস্থান নিতে পারলে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
ইসরায়েলের রাজনীতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক মেরুকরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নেতানিয়াহুর ডানপন্থী সরকারের নীতি, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দীর্ঘদিনের যুদ্ধের প্রভাব দেশটির রাজনৈতিক পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে। এবারের নির্বাচনেও এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
আইজেনকটের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের দলগুলোকে একই জোটে আনা। মধ্য-বামপন্থী ও ডানপন্থী দলগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা, ফিলিস্তিননীতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। এসব মতপার্থক্য দূর করে স্থিতিশীল সরকার গঠন করা সহজ হবে না।
এদিকে নেতানিয়াহু বিরোধী আরব দলগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য জোট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ ধরনের জোট ইসরায়েলের রাজনৈতিক কাঠামোকে দুর্বল করে দিতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট করেছে।
আইজেনকট সরকার গঠনে সফল হলে ইসরায়েলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে জোট গঠনের আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন সরকারের নীতি ও রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
সূত্র: বিবিসি
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।