পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিচ্ছেন বিপুলসংখ্যক অভিবাসী ও শরণার্থী। তবে এই যাত্রা ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। সমুদ্রপথে নজরদারি বাড়ায় অনেক অভিবাসী এখন আগের তুলনায় আরও দক্ষিণের দেশগুলো থেকে যাত্রা শুরু করছেন। এতে সমুদ্রযাত্রার দূরত্ব বাড়ছে এবং ছোট নৌকায় দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে গিয়ে প্রাণহানির ঝুঁকিও বাড়ছে।
৮ নভেম্বর প্রকাশিত আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনেগাল, মৌরিতানিয়া ও মরক্কোর উপকূলে নজরদারি জোরদার হওয়ার পর অভিবাসীদের যাত্রা শুরুর স্থান গাম্বিয়া, গিনি-বিসাউ ও গিনির দিকে সরে যাচ্ছে। এসব দেশ থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছাতে দীর্ঘ সমুদ্রপথ অতিক্রম করতে হয়।
স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। এই পথে যাত্রা করা অনেকেই উন্নত জীবন, নিরাপত্তা ও কাজের সন্ধানে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু যাত্রার জন্য ব্যবহৃত নৌকাগুলোর অনেকই দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার উপযোগী নয়। খাবার, পানীয় জল ও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর অভাব যাত্রীদের বিপদ আরও বাড়িয়ে তোলে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এএফপির বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাত্রা করা একটি নৌকায় দুজনের মরদেহ পাওয়া যায়। বেঁচে ফেরা যাত্রীদের বক্তব্য অনুযায়ী, যাত্রাপথে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে অন্তত নয়জন অভিবাসী ও শরণার্থীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে সমুদ্রপথে অনেক নৌকা নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন।
শনিবার সেনেগালের পুলিশ রাজধানী ডাকারের উপকূল থেকে নারী ও শিশুসহ ১৪২ জন অভিবাসীকে আটক করেছে। এই ঘটনা পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলীয় দেশগুলো থেকে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছে।
অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে স্পেন ও পশ্চিম আফ্রিকার কয়েকটি দেশ যৌথভাবে নজরদারি বাড়িয়েছে। উপকূলে টহল, নৌযান পরীক্ষা এবং যাত্রা শুরুর আগেই অভিবাসীদের আটক করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এসব ব্যবস্থার ফলে অভিবাসনের চেষ্টা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীরা আরও দীর্ঘ ও বিপজ্জনক পথ বেছে নিচ্ছেন।
ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে ২০২৪ সালে অভিবাসী আগমনের সংখ্যা ৪৬ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এরপর নজরদারি ও সহযোগিতা বাড়ায় আগমনের সংখ্যা কমেছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে সমুদ্রপথে ১৩ হাজার ৩২৭ জন অনিয়মিত অভিবাসী ও শরণার্থী দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছেছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কম।
তবে নভেম্বরের শুরুতে এল হিয়েরো দ্বীপে অভিবাসীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দ্বীপটির স্থানীয় প্রশাসন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সহায়তা চেয়েছে।
অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অনেকেই যুদ্ধ, দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতা থেকে বাঁচতে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু অনিরাপদ নৌযানে আটলান্টিক পাড়ি দেওয়ার সময় তাঁদের জীবন ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়ে। যাত্রাপথে নৌকা ডুবে যাওয়া, ইঞ্জিন বিকল হওয়া কিংবা খাদ্য ও পানির সংকটে মৃত্যুর ঘটনা নিয়মিত সামনে আসছে।
সূত্র: আলজাজিরা
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।