বিশ্ব

উরুগুয়েতে পোপের সফর ঘিরে জনসমাগম, ঐক্যের বার্তা দিলেন লিও

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ উরুগুয়েতে প্রথম ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছেন পোপ লিও চতুর্দশ। শনিবার দেশটির পায়সান্দু শহরে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ অংশ নেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন ভুলে মানুষের মধ্যে ঐক্য, যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দারিদ্র্য ও বৈষম্যে আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ক্যাথলিক চার্চের এই প্রধান।

রোববার, ৮ নভেম্বর প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোপ লিও ১২ দিনের দক্ষিণ আমেরিকা সফরের অংশ হিসেবে উরুগুয়ে পৌঁছান। ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে তাঁর এই সফর। উরুগুয়ের পর তিনি আর্জেন্টিনা ও পেরু সফর করবেন।

শনিবার পায়সান্দু শহরে পোপের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ সমবেত হন। তাঁদের অনেকেই উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনার সীমান্ত এলাকায় রাতভর অপেক্ষা করেছিলেন। অনুষ্ঠানের আগে সেখানে ভারী বৃষ্টি হলেও পোপের আগমনের কিছুক্ষণ আগে বৃষ্টি কমে যায়।

পায়সান্দু উরুগুয়ে নদীর তীরবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য সহজে যাতায়াতের সুযোগ থাকায় ভ্যাটিকান শহরটিকে পোপের দক্ষিণ আমেরিকার প্রথম ধর্মীয় অনুষ্ঠানের স্থান হিসেবে বেছে নেয়। ১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম কোনো পোপ উরুগুয়ে সফর করছেন।

অনুষ্ঠানে পোপ লিও কাছের জেনারেল আর্টিগাস আন্তর্জাতিক সেতুর উদাহরণ তুলে ধরেন। এই সেতু উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনাকে সংযুক্ত করেছে। তিনি বলেন, একটি সেতু মানুষের মধ্যে যোগাযোগ, বিনিময় ও পারস্পরিক সম্পর্কের সুযোগ তৈরি করে। তাই মানুষেরও উচিত বিভেদ দূর করে একে অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা।

পোপ বলেন, মানুষের দায়িত্ব হলো সেতুবন্ধন তৈরি করা, সম্পর্ক শক্তিশালী করা এবং যোগাযোগ ও ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা। দক্ষিণ আমেরিকার রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের প্রেক্ষাপটে তাঁর এই বক্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

পায়সান্দু সফরের আগে পোপ উরুগুয়ের রাজধানী মন্টেভিডিওর উত্তরের ক্যাসাভালে এলাকায় যান। এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের সমস্যায় ভুগছে। সেখানে তিনি দরিদ্র মানুষের বসতি পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।

ক্যাসাভালে এলাকায় অনেক মানুষ টিনের ছাউনি দেওয়া অস্থায়ী বাড়িতে বসবাস করেন। অনেক বাড়ির নির্মাণকাজও অসম্পূর্ণ। সেখানে এক মা তাঁর সন্তানকে নিয়ে গৃহহীন অবস্থায় জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা পোপের কাছে তুলে ধরেন। কথা বলার সময় ওই নারী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পোপ তাঁকে আলিঙ্গন করেন এবং সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি উদাসীনতা পরিহারের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আশপাশে অনেক মানুষ কষ্টে থাকলেও তাদের উপেক্ষা করা উচিত নয়। দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূর করতে সমাজের সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। স্থানীয় একটি গির্জার যাজক পাবলো কোইমব্রা রয়টার্সকে বলেন, ক্যাসাভালে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের কাছ থেকে যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছেন না। পোপের সফর তাঁদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উরুগুয়ে লাতিন আমেরিকার তুলনামূলকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে পরিচিত। দেশটির জরিপ সংস্থা সিফরার একটি জরিপ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নিজেদের ক্যাথলিক হিসেবে পরিচয় দেন। আরও ২৮ শতাংশ মানুষ ঈশ্বরে বিশ্বাস করলেও কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত মনে করেন না।

এমন একটি দেশে পোপের সফর এবং তাঁর অনুষ্ঠানে বিপুল মানুষের অংশগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে। মন্টেভিডিওর শতবর্ষী স্টেডিয়ামেও শনিবার সন্ধ্যায় প্রার্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভ্যাটিকানের হিসাব অনুযায়ী, সেখানে প্রায় এক লাখ মানুষ অংশ নেন। তাঁদের অনেকেই পোপকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দেন।

৭১ বছর বয়সী পোপ লিওর এই সফর সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাথলিক চার্চের কোনো প্রধানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরিবেশ ধ্বংস, অস্ত্র পাচার, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো বিষয়গুলো তাঁর সফরের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

রোববার উরুগুয়ে সফর শেষ করে পোপ আর্জেন্টিনার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সেখানে দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এরপর তিনি পেরু সফর করবেন। ১৭ নভেম্বর সফর শেষ হওয়ার কথা।

সূত্র: রয়টার্স

📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের ইনস্টাগ্রাম ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর
❮
Follow Us
Facebook Page Facebook Group WhatsApp Channel
✖
আমাদের সাথে Facebook-এ থাকুন
Facebook Page লোড হচ্ছে...