সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা এবং বিভিন্ন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ছয়টি সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। এসব অভিযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে হামলার দাবি নিশ্চিত করা হয়নি। ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি।
৮ নভেম্বর প্রকাশিত রয়ানিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ছয়টি সামরিক অভিযানের কথা জানান। তাঁর দাবি, সৌদি আরবের বিভিন্ন তেল স্থাপনা, রিয়াদ বিমানবন্দর এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় সৌদি সেনাদের অবস্থান এসব অভিযানের লক্ষ্য ছিল।
ইয়াহিয়া সারি বলেন, এসব অভিযানে বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। সৌদি আরবের আরামকোর তেল স্থাপনা এবং রিয়াদ বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সীমান্তবর্তী এলাকায় সামরিক অবস্থান এবং সেনাদের অবস্থানেও হামলার দাবি করেন।
হুতি মুখপাত্র আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সৌদি আরবের ভূখণ্ডে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। সংঘাত বাড়লে সৌদি সামরিক কর্মকর্তা ও সেনাদের অবস্থানেও হামলা চালানো হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের সামরিক পদক্ষেপের জবাবেই হুতিরা পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে।
তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ কিংবা ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এসব হামলার দাবি নিশ্চিত করেনি। ফলে সৌদি আরবের কোন কোন স্থাপনায় হামলা হয়েছে, সেগুলোর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি কতটা এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের সংঘাতে হুতিদের সামরিক সক্ষমতা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের বিরোধ নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে সামরিক অভিযান শুরু করে।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সংঘাতের মাত্রা কমে এলেও গত জুলাই থেকে নতুন করে লড়াই শুরু হয়। হুতিদের হামলা এবং সৌদি আরবের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের কারণে পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর উত্তেজনার সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাব ইয়েমেনের পরিস্থিতিতেও পড়ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এদিকে সানার কাছে সৌদি বিমান হামলায় ৩৩ জন নিহত হওয়ার দাবি করেছে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ওই হামলায় ৩৯ জন আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে। ফলে একই সময়ে ইয়েমেনে বিমান হামলা ও হুতিদের পাল্টা অভিযানের দাবিতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তবে সর্বশেষ ছয়টি অভিযানের দাবি সম্পর্কে সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসা পর্যন্ত হামলার প্রকৃত পরিণতি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
সূত্র: রয়ানিউজ
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।