বিশ্ব

তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৬, আহত বেড়ে ৬৫

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৬৫ জন। ভূমিকম্পে শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়েছে। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালানোর পাশাপাশি ১২ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে শুক্রবার প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে বিভিন্ন সময় প্রকাশিত সরকারি তথ্যের মধ্যে আহতের সংখ্যা নিয়ে পার্থক্য রয়েছে।

Reuters
+2

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কেন্দ্র ছিল উত্তর তিব্বতের নাগচু অঞ্চলের একটি দুর্গম ও জনবসতি কম এমন এলাকায়। চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের আশপাশের এলাকার গড় উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

উচ্চভূমি, দুর্গম সড়ক এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেখানে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভূমিকম্পে ঘরবাড়ির দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং বহু স্থাপনা ধসে পড়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশ করা ভিডিওতে ভূমিকম্পের পর মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে ও গাড়ির মধ্যে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। কেউ কেউ ঘুমের মধ্যে কম্পনে জেগে ওঠার পর দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যান।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৩০০টির বেশি বাড়ি ধসে পড়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে ৩৩৯টি বাড়ি ও ২০টি পশুর খামারঘর ধসে পড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে আহতের সংখ্যা ৩২, ৪৬ ও ৬৫ হিসেবে এসেছে। এটি বিভিন্ন সময়ে তথ্য হালনাগাদ হওয়ার কারণে হয়ে থাকতে পারে; সর্বশেষ রয়টার্স প্রতিবেদনে আহতের সংখ্যা ৬৫ বলা হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানে স্থানীয় উদ্ধারকর্মী ও পুলিশের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এপি জানায়, এক হাজার ৬০০ জনের বেশি কর্মী উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। দুর্গতদের জন্য তাঁবু, অস্থায়ী আবাসন, ভাঁজ করা বিছানা, শীতবস্ত্র ও টর্চলাইট পাঠানো হয়েছে।

ভূমিকম্পের কারণে কিছু এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ট্রেন চলাচল বন্ধ করেছে। পাথরধসের কারণে জাতীয় মহাসড়ক ৩১৭-এর একটি অংশে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে। উদ্ধারকারী ও জরুরি সহায়তাবাহী যানবাহনকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এসব বাধা দুর্গম এলাকায় উদ্ধারসামগ্রী পৌঁছানোর কাজে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

মূল ভূমিকম্পের পর আশপাশের এলাকায় ৩ থেকে ৪ মাত্রার একাধিক পরবর্তী কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান চলার সময় পরবর্তী কম্পনের আশঙ্কা এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সিনহুয়ার বরাত দিয়ে এপি জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় পরবর্তী তিন দিনে মাঝেমধ্যে তুষারপাতের আশঙ্কা রয়েছে। তাপমাত্রা কমে গেলে খোলা জায়গায় থাকা মানুষ এবং ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হতে পারে।

এই ভূমিকম্পকে চীনে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী ছিংহাই প্রদেশের ইউশু এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হয়েছিলেন এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন। তবে ওই দুর্যোগের সঙ্গে বর্তমান ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি সরাসরি তুলনা করার মতো পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে তিব্বতের দুর্গত এলাকায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজ, আহতদের চিকিৎসা, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির অবস্থা নিরূপণ এবং আশ্রয়হীন মানুষকে নিরাপদ স্থানে রাখার কাজ চলছে। হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব উদ্ধার অভিযান এবং সরকারি মূল্যায়ন শেষ হওয়ার পর আরও পরিবর্তিত হতে পারে।

📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের ইনস্টাগ্রাম ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর
❮
Follow Us
Facebook Page Facebook Group WhatsApp Channel
✖
আমাদের সাথে Facebook-এ থাকুন
Facebook Page লোড হচ্ছে...