ধর্মীয়

যে ৪ জিকিরে গাছের পাতার মতো গুনাহ ঝরে যায়

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আনাস (রা.)-থেকে বর্ণিত, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি শুকনা পাতাবিশিষ্ট গাছের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তাঁর লাঠি দিয়ে তাতে আঘাত করলে হঠাৎ পাতাগুলো ঝরে পড়ে।

অতঃপর তিনি বলেন, কোনো বান্দা ‘আলহামদু লিল্লাহ, সুবহানাল্লাহ, লাইলা-হা ইল্লাল্লাহু এবং আল্লাহু আকবার’ বললে তা তার গুনাহ এমনভাবে ঝরিয়ে দেয় যেভাবে এই গাছের পাতা ঝরে পড়েছে। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৩৩)
শিক্ষা ও করণীয়

১. আল্লাহর জিকির গুনাহ মোচনের অন্যতম মাধ্যম। ‘আলহামদু লিল্লাহ’, ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ও ‘আল্লাহু আকবার’—এই চারটি জিকিরের রয়েছে অসাধারণ ফজিলত।

২. ছোট আমলও হতে পারে ক্ষমা লাভের বড় মাধ্যম।

ইসলামে নেক আমল করার জন্য সব সময় দীর্ঘ সময় বা অনেক সম্পদের প্রয়োজন হয় না। অল্প সময়ে মুখে উচ্চারিত কয়েকটি জিকিরও অনেক সওয়াবের কারণ হতে পারে। তাই ব্যস্ততার মধ্যেও মুমিনের উচিত আল্লাহর জিকিরে জিহ্বাকে সিক্ত রাখা।
৩. ‘আলহামদু লিল্লাহ’ অর্থ—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

জীবনের সুখ-দুঃখ, সুস্থতা-অসুস্থতা এবং প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির প্রতিটি পরিস্থিতিতে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। তাঁর অগণিত নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা ঈমানি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
৪. ‘সুবহানাল্লাহ’ অর্থ—আল্লাহ পবিত্র ও সব ধরনের ত্রুটি-অপূর্ণতা থেকে মুক্ত। এই জিকিরের মাধ্যমে বান্দা স্বীকার করে যে মহান আল্লাহ সব ধরনের দুর্বলতা ও অপূর্ণতা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র। এটি আল্লাহর মহত্ত্ব উপলব্ধি করতে এবং তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত রাখতে সাহায্য করে।

৫. ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ অর্থ—আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই। এটি ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের ঘোষণা। একজন মুমিনের জীবনে এই কালিমার শিক্ষা প্রতিফলিত হওয়া উচিত—সে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর ওপর ভরসা রাখবে এবং তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করবে।

৬. ‘আল্লাহু আকবার’ অর্থ—আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। এই জিকির মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে আল্লাহর চেয়ে বড় কেউ নেই। দুনিয়ার সম্পদ, ক্ষমতা, সম্মান কিংবা বিপদ—কোনোটিই আল্লাহর ক্ষমতার ঊর্ধ্বে নয়। তাই মুমিনের উচিত সব অবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা।

৭. রাসুলুল্লাহ (সা.) গাছের পাতা ঝরে পড়ার দৃশ্যের মাধ্যমে গুনাহ মোচনের বিষয়টি বুঝিয়েছেন। অর্থ্যাৎ যেমন গাছের শুকনো পাতা ঝরে পড়ে, তেমনি আল্লাহর অনুগ্রহে বান্দার গুনাহও ক্ষমা হতে পারে। তবে কবিরা গুনাহের ক্ষেত্রে আন্তরিক তওবা এবং মানুষের হক নষ্ট করে থাকলে তা ফিরিয়ে দেওয়া বা যথাযথভাবে মীমাংসা করাও জরুরি।

৮. জিকিরকে দৈনন্দিন জীবনের অভ্যাসে পরিণত করা উচিত। জিকির শুধু নামাজের পর কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের আমল নয়; বরং বৈধ কাজের ফাঁকে ফাঁকেও আল্লাহকে স্মরণ করা যায়। চলাফেরা, কাজের বিরতি কিংবা অবসর সময়ে এই চারটি জিকির পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। এতে অল্প অল্প করে দিনের অনেকটা সময় ইবাদতে অতিবাহিত হবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের জিহ্বাকে তাঁর জিকিরে সিক্ত রাখুন, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দিন এবং তাঁর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি লাভের সৌভাগ্য দান করুন। আমিন।

📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের ইনস্টাগ্রাম ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর
❮
Follow Us
Facebook Page Facebook Group WhatsApp Channel
✖
আমাদের সাথে Facebook-এ থাকুন
Facebook Page লোড হচ্ছে...