সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে থোকায় থোকায় ফল। মাচাজুড়ে ফলের সমারোহ। অপরিচিত এই ফল দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার কিনে নিচ্ছেন। পাহাড়ি ফল আনারকলি চাষ করে এমনই সাড়া ফেলেছেন নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের মৌজা পাঁচঘড়িয়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম ও তার জামাই মোরছালিন।
শখের বশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনারকলি চাষের তথ্য দেখে তারা পরীক্ষামূলকভাবে বাণিজ্যিক এ ফলের চাষ শুরু করেন। পাঁচ মাস আগে ১৪ শতক জমিতে ৬৫টি চারা রোপণ করেন। গাছের পরিচর্যা ও মাচা তৈরির পর পাঁচ মাসের মাথায় ফল আসতে শুরু করে। এখন গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে আনারকলি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে জামাই শ্বশুরের আনারকলি বাগানে গেলে পাহাড়ী অঞ্চলের অপরিচিত ফল আনারকলির সমাহার চোখে পড়ে।
রফিকুল ও মোরছালিন জানান, আনারকলি পাহাড়ি ফল হলেও বদলগাছীর বেলে-দোআঁশ মাটিতে এটি চাষ করা সম্ভব। তবে জমি উঁচু হতে হবে এবং গাছের গোড়ায় পানি জমতে দেওয়া যাবে না। এসব বিষয় মাথায় রেখেই তারা বাগান তৈরি করেছেন।
চলতি সপ্তাহ থেকে বাগানের ফল সংগ্রহ ও বিক্রি শুরু করেছেন তারা। বর্তমানে প্রতি কেজি আনারকলি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রথম দুই-তিন দিনেই প্রায় পাঁচ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছেন। পুরো বাগান থেকে প্রায় এক লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছেন এই দুই কৃষক।
আনারকলি চাষের খবর ছড়িয়ে পড়ায় বাগানটি দেখতে আশপাশের গ্রামসহ দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন। অনেকে ফলের সঙ্গে ছবি তুলছেন, আবার কেউ স্বাদ নেওয়ার জন্য কিনে নিচ্ছেন। নতুন এই ফলের চাষ দেখে আগ্রহ তৈরি হয়েছে স্থানীয় অন্য কৃষকদের মধ্যেও।
স্থানীয় মিলন হোসেন ও ফরহাদ হোসেনসহ কয়েকজন কৃষক জানান, বদলগাছী সবজি উৎপাদনের জন্য পরিচিত। প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি নতুন ফলের চাষের এমন উদ্যোগ তাদের আগ্রহী করেছে। তারাও আনারকলি চাষ করতে চান। এ জন্য কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, আনারকলির স্বাদ টক-ঝাল-মিষ্টি। পুষ্টিগুণের কারণেও ফলটির বাজার তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন এই ফলের চাষ সম্প্রসারণে আগ্রহী কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মেহেদী হাসান বলেন, জামাই-শ্বশুরের আনারকলি বাগানটি কৃষি বিভাগের তদারকিতে রয়েছে। নতুন ফসল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে তারা কাজ করছেন। উপযুক্ত জমি ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এ ফলের চাষ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।
প্রচলিত ফসলের বাইরে নতুন ফল চাষের এই উদ্যোগ বদলগাছীর কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলতে পারে। তবে পরীক্ষামূলক এই চাষ কতটা লাভজনক হবে, তা নির্ভর করবে ফলনের ধারাবাহিকতা, উৎপাদন খরচ ও বাজারের চাহিদার ওপর।
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।