যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অন্তত ১৫০ জন আফগান নাগরিককে বহিষ্কারের পরিকল্পনা বন্ধ করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির ৬৬ জন আইনপ্রণেতা। তাঁদের আশঙ্কা, বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে পাঠানো হলে তাঁদের অনেকেই তালেবানের প্রতিশোধ ও নির্যাতনের শিকার হতে পারেন।
সোমবার পাঠানো এক চিঠিতে আইনপ্রণেতারা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েইন মুলিনের কাছে পরিকল্পিত বহিষ্কার অভিযান বন্ধের দাবি জানান।
চিঠিতে বলা হয়েছে, অন্তত ১৫০ জন আফগানকে মঙ্গলবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের আটককেন্দ্রগুলো থেকে বিমানে পাকিস্তানে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পরে তাঁদের আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হতে পারে।
আইনপ্রণেতারা জানান, বহিষ্কারের ঝুঁকিতে থাকা আফগানদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন, যাঁরা আফগানিস্তানে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ আফগান সরকারের সাবেক কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য কিংবা মার্কিন বাহিনীর সহযোগী ছিলেন। তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও ঝুঁকির মুখে রয়েছেন।
চিঠিতে আইনপ্রণেতারা উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করার কারণে এসব আফগান ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা তালেবানের সন্দেহ ও প্রতিশোধের লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন। তাঁদের আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হলে জীবনহানির আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান সরকারের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ফলে সরাসরি আফগানিস্তানে বহিষ্কার করা কঠিন হওয়ায় পাকিস্তানকে মধ্যবর্তী গন্তব্য হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ফার্স্ট জানিয়েছে, লুইজিয়ানা থেকে পাকিস্তানের উদ্দেশে আফগানদের বহনকারী একটি বিশেষ ফ্লাইট মঙ্গলবার ছাড়ার কথা রয়েছে।
এদিকে আফগান শরণার্থীদের সহায়তাকারী সংগঠন আফগানইভ্যাকের প্রতিষ্ঠাতা শন ভ্যানডাইভার বলেছেন, অনেক আটক আফগান যথাযথ আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাননি। ফলে তাঁদের বহিষ্কারের বিরুদ্ধে আদালতে কার্যকরভাবে লড়াই করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।