যুক্তরাষ্ট্রে আটক আফগান নাগরিকদের আফগানিস্তান অথবা পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। মঙ্গলবার নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক ভ্যালেরি ক্যাপ্রোনি এ আদেশ দেন। আফগান নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানো হলে তালেবানের হাতে তাঁদের নির্যাতন, প্রতিশোধ কিংবা প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা জানিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও কংগ্রেসের সদস্যরা আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের আদেশ শনিবার পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। মার্কিন সরকার আদালতকে জানিয়েছে, অন্তত চলতি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত আফগান নাগরিকদের আফগানিস্তান বা পাকিস্তানে পাঠানোর জন্য কোনো বিশেষ কিংবা বাণিজ্যিক ফ্লাইট নির্ধারিত নেই। বিচারক তাঁর আদেশে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের এ অবস্থান মেনে চলতে বলেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিই সাধারণত বহিষ্কারের ফ্লাইট কয়েক সপ্তাহ আগেই বুক করে থাকে। ফলে আদালতের আদেশের সময়সীমার মধ্যে নতুন করে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে।
আদালতে দাখিল করা তথ্য অনুযায়ী, ৮০ জনের বেশি আটক আফগান নাগরিককে আইসিই নোটিশ দিয়েছিল যে তাঁদের পাকিস্তানে পাঠানো হতে পারে। তাঁদের মধ্যে নারী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য রয়েছেন।
আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর দেশটির সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, বিদেশি বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রে আটক এসব আফগানকে ফেরত পাঠানো হলে তাঁদের পরিচয় ও অতীত ভূমিকার কারণে প্রতিশোধের শিকার হতে হতে পারে।
আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে বলা হয়, তালেবান শাসনে ফিরে গেলে অনেকের ওপর নির্যাতন, নির্বিচারে আটক কিংবা মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে নারী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং সাবেক নিরাপত্তাকর্মীদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৬ জন কংগ্রেস সদস্যও আফগান নাগরিকদের বহিষ্কারের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও সহায়তা সংস্থার সঙ্গে কাজ করা আফগানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ওয়াশিংটনের দায়িত্বের অংশ।
আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন ও আফগান শরণার্থীদের সহায়তাকারী সংস্থাগুলো আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তারা বলেছে, এটি স্থায়ী সমাধান নয়; কেবল সাময়িক স্বস্তি। আটক আফগানদের ভবিষ্যৎ এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বহিষ্কারের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে পাকিস্তানের নাম আসার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই। সে কারণে তৃতীয় দেশ হিসেবে পাকিস্তানের মাধ্যমে আফগানদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের আদেশের ফলে আপাতত বহিষ্কার কার্যক্রমে বিরতি তৈরি হয়েছে। তবে শনিবারের পর কী হবে, সরকার নতুন কোনো ফ্লাইট নির্ধারণ করবে কি না, কিংবা আদালত স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়াবেন কি না—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সূত্র: এপি
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।