রংপুর বিভাগ

সৈয়দপুরের হোটেলগুলোতে দুধ চায়ে ভেজালের অভিযোগ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিভিন্ন খাবার হোটেল ও চায়ের দোকানে দুধ চা তৈরিতে ভেজালের অভিযোগ উঠেছে। দুধের সঙ্গে পানি, গুঁড়া দুধ ও স্যাকারিন মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে চায়ের দুধ। বড় বড় ড্রামে এসব উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের পর তা ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন দোকানে। পুষ্টিকর দুধ মনে করে এসব চা পান করে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু হোটেলে বড় ড্রামে দুধের সঙ্গে পানি ও গুঁড়া দুধ মিশিয়ে তৈরি করা হয় চায়ের দুধ। এ সময় বাঁশের লম্বা লাঠির মাথায় কাপড় পেঁচিয়ে মিশ্রণটি দীর্ঘক্ষণ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে নাড়ানো হয়। তবে এ কাজে ব্যবহৃত পানি কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কোথাও কোথাও দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত গুঁড়া দুধ, এমনকি কৌটাজাত দুধও মেশানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি স্বাদ ও মিষ্টি বাড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে স্যাকারিন।

সৈয়দপুর উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৫ শতাধিক খাবার হোটেল রয়েছে। এসব হোটেল ও চায়ের দোকানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চা পান করেন। দোকানভেদে এক কাপ দুধ চা বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ১৫ টাকায়। কম দামের এসব চা তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদানের মান ও নিরাপত্তা যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, শহরের বিভিন্ন হোটেলে লাল চায়েরও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতি কাপ লাল চা বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকায়। চায়ের স্বাদ ও আকর্ষণ বাড়াতে কোথাও কালোজিরা, সাদা তিল, লেবু ও আদা, আবার কোথাও কাঁচা পুদিনাপাতা ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এসব উপাদান কী পরিমাণে, কীভাবে এবং কতটা স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নজরদারির দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

চিকিৎসকদের মতে, কোনো খাবার বা উপাদান উপকারী হলেই তা যেকোনোভাবে গ্রহণ করা নিরাপদ নয়। খাবারের উপাদানের বিশুদ্ধতা, সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং প্রস্তুতপ্রক্রিয়া স্বাস্থ্যসম্মত কি না, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, কিছু উপাদানকে উপকারী হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সেগুলো যেকোনোভাবে খাওয়া উচিত নয়। খাবারটি স্বাস্থ্যসম্মত কি না এবং এর উপাদানগুলো নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। প্রয়োজনে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে খাদ্যের মান যাচাই করতে হবে।

এদিকে, দুধে ভেজাল, অনিরাপদ পানি ও অনুমোদনহীন উপাদান ব্যবহারের অভিযোগ তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি উঠেছে। সচেতন মহলের মতে, হোটেল ও চায়ের দোকানে ব্যবহৃত দুধের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা, খাবার তৈরির পরিবেশ পরিদর্শন এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের ইনস্টাগ্রাম ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর
❮
Follow Us
Facebook Page Facebook Group WhatsApp Channel
✖
আমাদের সাথে Facebook-এ থাকুন
Facebook Page লোড হচ্ছে...